Published : 13 Jan 2026, 11:37 PM
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়া ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে এক ফোনালাপে প্রধান উপদেষ্টা এ সহায়তা চান বলে তার দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচনকে ঘিরে মিথ্যা তথ্যের বন্যা বইছে। এটি বিদেশি সংবাদমাধ্যম এবং দেশীয়-উভয় উৎস থেকেই আসছে। তারা সামাজিক মাধ্যমকে ভুয়া খবর, গুজব ও অভিযোগ দিয়ে ভাসিয়ে দিয়েছে। নির্বাচনে এটি প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। এই ক্রমবর্ধমান ভুয়া তথ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
ভলকার তুর্ক বলেন, “ভুয়া তথ্য অনেক বেশি। প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে আমরা প্রস্তুত।”
এই সমস্যা মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, যোগ করেন তিন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেদিন একই সঙ্গে সংস্কার প্রশ্নে জনগণের রায় পেতে গণভোটও হবে।
ফোনালাপে দুই নেতা আসন্ন গণভোট, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্ব, গুম সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন।
এ সময় হাইকমিশনার টুর্ক গুম সংক্রান্ত বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে একটি ‘সত্যিকার অর্থে স্বাধীন’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, এনএইচআরসি–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, “আমরা দায়িত্ব ছাড়ার আগেই এটি করব।”
সরকারপ্রধান, তিনি গুম সংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তিনি এটিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে তুলে ধরে বলেন, এটি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরাচারী শাসনামলে সংঘটিত গুমের শিকার ব্যক্তিদের জন্য জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার নেওয়া উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তার দপ্তর গুম সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রমে সহায়তা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।
ভলকার তুর্কের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার ফোনালাপের সময় এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।