Published : 08 Feb 2026, 07:25 PM
শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রীর রিমান্ড আবেদন না করায় আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান এ নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়াকে প্রশ্ন করেন।
পরে তদন্ত কর্মকর্তা চার আসামির সবার রিমান্ড আবেদন করেন, যা শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার।
শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় তার হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা ১ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথী এবং অজ্ঞাতনামা দুইজনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর সে দিন গভীর রাতে সাফিকুর ও বিথীর সঙ্গে দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার সুফিয়া বেগমের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রোববার ধার্য করে।
এদিন আসামিদের জামিন আবেদনের ওপর শুনানির দিনও ধার্য ছিল। তারা বৃহস্পতিবার জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
সুফিয়া বেগমকে আদালতে হাজির করে এদিন শুনানির শুরুতে বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার কাছে মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামিকে বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির রিমান্ড আবেদনের কারণ জানতে চান।
জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।”
এরপর বিচারক বলেন, “এজাহারনামীয় আসামির রিমান্ড আবেদন নয় কেন?”
জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “তথ্যটা সহজে পাওয়া যাবে, এজন্য এ আসামির রিমান্ড আবেদন। ধাপে ধাপে অন্যদের রিমান্ড আবেদন করা হবে।”
তখন বিচারক বলেন, “প্রথমে একজন, পরে আরেকজনের রিমান্ড আবেদন করবেন। সবার এক সাথে আবেদন দেন। শুনানি এক সাথে হবে।”
এ অবস্থায় আসামিদের পক্ষে আর জামিন শুনানি করেননি তাদের আইনজীবী জাকির হোসেন।
বিকালে অপর তিন আসামিরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুফিয়া বেগম দাবি করেন, তিনি মারধর করিনি। তারা মারধর করতো।
“দিনেরটা তো দেখতাম। রাতেরটা দেখতাম না।”
মারধর করতে দেখেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের সামনে এমনি চড়-থাপ্পড় মারতে দেখেছি। কিন্তু এত বড় আঘাত করছে, আমরা দেখি নাই। বাচ্চার গায়ে মারের এত বড় দাগ আমরা চলে যাবার পর করতে পারে। আমি তিনটার সময় আসতাম, চারটার সময় চলে যেতাম।”
শিশুকে চড়-থাপ্পড় কে মারতেন? জবাবে গৃহকর্মী সুফিয়া বলেন, “ম্যাডামে মারতো।”
শিশুটির বাবার করা মামলায় বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর বাচ্চা দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়।
মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি পেয়ে মোস্তফা গত বছরের জুন মাসে তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসেন তিনি।
এরপর আর মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে ‘দেখা করতে দেওয়া হয়নি’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
সেখানে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মেয়েকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেন বীথি।
মোস্তফা মামলায় বলেছেন, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম দেখতে পান। তার মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বীথি এর ‘সদুত্তর দিতে পারেননি’।
পরে মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। মেয়ে তাকে বলে, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হত। তাকে ‘মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছেঁকাও’ দেওয়া হত।