Published : 10 Feb 2026, 06:40 PM
ভোটের গাড়ির প্রচার কার্যক্রমে ‘জনমত বাক্স’-এ লেখা মতামতের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানা বয়সের মানুষ সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নিজেদের ভাবনা, দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘দেশের চাবি, আপনার হাতে’ গণভোট ২০২৬ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সচেতনতামূলক প্রচারণার জন্য ভোটের গাড়ির প্রচারণা কার্যক্রমে ‘জনমত বাক্স’-এ টুকরো টুকরো কাগজে ৪০ হাজার ২০৬ জন তাদের মন্তব্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেউ লিখেছেন ব্যক্তিগত দুঃখের কথা, কেউ চান হয়রানিমুক্ত পাবলিক সার্ভিস ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, নারী-পুরুষের সমতা, শিশুদের নিরাপত্তা, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা এবং দুর্নীতিমুক্ত ও আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশের দাবিও উঠে এসেছে এসব মন্তব্যে।
আবার কেউ কেউ সরকারের সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক মন্তব্যও লিখেছেন।
জনমত বাক্সে সবচেয়ে বেশি মন্তব্য এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে-১০ হাজার ২১৬টি। চট্টগ্রাম থেকে এসেছে ৬ হাজার ৬টি, রাজশাহী থেকে ৫ হাজার ৭৩৮টি, খুলনা থেকে ৪ হাজার ৬৭৮টি, রংপুর থেকে ৩ হাজার ৬০৫টি, বরিশাল থেকে ২ হাজার ১২৪টি, ময়মনসিংহ থেকে ১ হাজার ৭৯৯টি এবং সিলেট থেকে এসেছে ১ হাজার ৬৫১টি মন্তব্য।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোটের গাড়ি সারাদেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ২ হাজার ১৬৯টি স্পটে গিয়ে এ প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়েছে।

গাজীপুর থেকে ১০ বছর বয়সী রাফা লিখেছেন, “আমার পরামর্শ হল আমি এ দেশের মাটি ও বাতাসের মাঝে নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ ভবিষ্যত বাংলাদেশে দেখতে চাই। এরকম একটা ভবিষ্যত বাংলাদেশ গড়তে নীতি-নির্ধারক তৈরি করার নির্বাচন অনুষ্ঠিত করুন।”
কুমিল্লা থেকে দেওয়ান সালাহউদ্দিন লিখেছেন, “সুষ্ঠু ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। মানুষ চায় সুষ্ঠু ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে পারে। কেন্দ্রে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা যাবে না। আমার ভোট আমি দিবো যাকে খুশি তাকে দিবো। প্রধান উপদেষ্টা ভালো ভোট আয়োজন করবেন।”
চট্টগ্রাম থেকে গোলাম রাব্বানি লিখেছেন, “আমি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য কোম্পানির মালিককে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরধ জানাচ্ছি।”
ঠাকুরগাঁও থেকে একজন লিখেছেন, “গরিব মানুষ দিন মজুর করে খাই। গরুর মাংস আমরা কিনে খাইতে পারি না। বাজার নিয়ত্রণ চায় সিন্ডিকেট চলতেছে বাজারে। গরিব মানুষ কিনে খাইতে পারছে না।”
বরিশাল থেকে সাদিক লিখেছেন, “যে দেশে শিক্ষকদের মান উন্নয়ন নিয়ে কেউ ভাবে না সে দেশে সুন্দর আদর্শ রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব না।”

পিরোজপুর থেকে একজন লিখেছেন, “বাংলাদেশের সকল মানুষের অধিকার দিতে হবে। সবধর্মের মানুষের অধিকার দিতে হবে। সবাইকে বাকস্বাধীনতা অধিকার দিতে হবে। স্বাধীন বাংলার সবার অধিকার থাকবে। পক্ষপাতিত্ব যেন না হয়। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান একসাথে বাঁচতে চাই। সংখ্যালঘু নিরাপত্তা চাই।”
দিনাজপুর থেকে লিজা, বিপাশা, সুমি, লিনা ও বৃষ্টি লিখেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মনে রেখে দেশের সুন্দর এবং সুষ্ঠু সংস্কার চাই। নারী ও শিশুদের অধিকার, ধর্ষণের ১০ দিনের মধ্যে রায় কার্যকর হোক। রাজনীতি যে দলই আসুক দিনাজপুর না কেন দেশের সংস্কারে যেন সকলেই নিয়োজিত থাকে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এসব লেখা পড়ে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেছেন, জনগণের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা একটি অমূল্য সম্পদ। এ কারণে কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই সব প্রশংসা, মন্তব্য, পরামর্শ এবং সমালোচনা ও নিন্দা সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।