Published : 11 May 2025, 08:31 PM
পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত জিপিও ভবন সচিবালয়ের এক্সটেনশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে গণপূর্তের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এর তীব্র প্রতিবাদ করেছে ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছে, জিপিও ভবন পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত, এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
রোববার সকালে জিপিও পুরাতন ভবনের অডিটরিয়ামে পোস্টমাস্টার জেনারেলসহ ডাক বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশও হয়।
পরে ডাক বিভাগ ঢাকার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও বিসিএস পোস্টাল অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক আতিয়া সুলতানার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে একটি পত্রের মাধ্যমে জিপিও ভবন পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত দাবি করে তা বাংলাদেশ সচিবালয়ের এক্সটেনশন হিসেবে সচিবালয়ের মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্তি ও হস্তান্তরের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার নিকট।
“আমরা জোরালোভাবে জানাতে চাই, এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সরকার ঘোষিত জিপিও কম্পাউন্ড একটি কেপিআইভুক্ত স্থাপনা। এই কম্পাউন্ডে ডাক বিভাগের ১৪টি অপারেশনাল অফিস সক্রিয়ভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখান থেকে ডাক সেবা গ্রহণ করছে। ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানের এই কেন্দ্রটি কখনই পরিত্যক্ত ছিল না এবং যতদিন সভ্যতা থাকবে, ডাক সেবা থাকবে, ততদিন এটি পরিত্যক্তও হবে না।”

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত ডাক ভবনে স্থানান্তরিত হলেও অন্যান্য অপারেশনাল অফিস জিপিও কম্পাউন্ডেই চলছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।
ডাক বিভাগের মতামত ছাড়া এ ধরনের চিঠি জারি এবং তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপনের তীব্র নিন্দা জানানো হয় এতে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জিপিও ভবন শুধুমাত্র একটি স্থাপনা নয়, এটি ডাক বিভাগের প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাণের জায়গা, তাদের গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই ভবন কেড়ে নেওয়ার যেকোনো উদ্যোগকে আমরা সরাসরি দেশের ডাক সেবার ওপর আঘাত হিসেবেই বিবেচনা করি।
“অবিলম্বে এই প্রস্তাব বাতিল করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে ডাক বিভাগের সঙ্গে পরিপূর্ণ আলোচনা ও সম্মতি নিতে হবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোস্টমাস্টার জেনারেল মেট্রোপলিটন সার্কেল মো. আলতাফুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডাক বিভাগের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। আজকের আলোচনাতে সবাই উপস্থিত থেকে এর প্রতিবাদ করেছে।”
গণপূর্ত থেকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো চিঠির বিষয়ে জানতে কয়েকবার চেষ্টা করেও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
তবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, কয়েক মাস আগে জিপিও ভবন পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত হওয়ায় সচিবালয়ের এক্সটেনশন হিসেবে তা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে থেকে একটি প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টার কাছে দেওয়া হয়েছে।