Published : 29 Jun 2026, 06:17 PM
কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিত করার আইনি বিধান নিয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিতকরণ সংবিধান পরিপন্থি কেন ঘোষণা করা হবে না এবং কেন তা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মজীবী নারীর জন্য সমান মাতৃত্বকালীন ছুটি সীমিত করা কেন অসাংবিধানিক হবে না জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত।
মাতৃত্বকালীন ছুটি সীমিত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের আবেনের শুনানি নিয়ে সোমবার হাই কোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ এই রুল জারি করে।
গত ১৫ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান রিট মামলা দায়ের করেন। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিবসহ মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়।
শুনানি শেষে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, “দেশের সকল কর্মজীবী যারা নারী আছেন তাদের জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমরা এই রিট পিটিশনটা ফাইল করি।”
শ্রম আইনের যে সংশ্লিষ্ট ধারা ও বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস অর্থাৎ যার মাধ্যমে সকল সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা পরিচালিত হন, সেটার সংশ্লিষ্ট বিধি চ্যালেঞ্জ করে তিনি এই রিট মামলা করেছেন।
শ্রম আইনের সে ধারায় বলা হয়েছে, যে কোনো নারী মাতৃত্বকালীন সুবিধা পাবেন না, ছুটি পাবেন না, যদি না তিনি তার সন্তান প্রসবের পূর্বে ন্যূনতম ছয় মাস সেই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে থাকেন। অর্থাৎ ছয় মাস সময়ের কম সময় কাজ করলে কোনো নারী কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়ার অধিকারী হবেন না। সেটা তার প্রথম সন্তান হোক, দ্বিতীয় সন্তান হোক কিংবা তৃতীয় সন্তান হোক।
একই সঙ্গে বলা হয়েছে যে যদি তার সন্তান প্রসবের সময় দুই বা তৃতীয় সন্তান জীবিত থাকে, তাহলে তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে কোনো ছুটিই পাবেন না। অর্থাৎ প্রথম এবং দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে ছুটি পাবেন যদি ছয় মাস কাজ করে থাকেন। আর ছয় মাসের আগে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান তাকে বের করে দেয় বা কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি কাজ করার ছয় মাস পূর্ণ না হয়, তাহলে তিনি প্রথম এবং দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন না। তৃতীয় সন্তানের সময় তিনি কোনো ছুটিই পাবেন না।
এই আইনজীবী বলেন, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের বিধিতেও বলা হয়েছে একজন নারী সরকারি কর্মচারী সমগ্র চাকরিকালীন সময়ে প্রসূতি ছুটি দুইবারের বেশি পাবেন না। তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে ছুটিই পাবেন না।
এই আইনজীবী বলেন, “আমাদের বক্তব্য হচ্ছে মাতৃত্বকালীন ছুটি তো কোনো রিওয়ার্ড না যে একজনের বাচ্চা হলো তাকে রিওয়ার্ড হিসেবে মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হচ্ছে। মাতৃত্বকালীন ছুটি হচ্ছে প্রয়োজন-নেসেসিটি। একজন মা এবং শিশুর তার যে শারীরিক ঝুঁকি থাকে, সেটা প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রেও যা থাকে, তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে তার চেয়ে আরও বেশি থাকে।
“উপরন্তু, একজন শিশু শুধুমাত্র এই কারণে বঞ্চিত হতে পারেন না যে তিনি কেন তৃতীয় সন্তান হলেন। একটা শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে অন্তত ছয় মাস তাকে ব্রেস্টফিডিং করানো বাধ্যতামূলক, না হলে সেই শিশুর শারীরিক এবং মানসিক বৃদ্ধি ঘটবে না।”
তিনি বলেন, এই বিষয়টা আমরা সবাই জানি, কিন্তু তারপরও নারীদের জন্য, শিশুদের জন্য এমন বৈষম্যমূলক এবং অবিবেচকের মতো আইন করা হয় যেন মনে হয় যে কোনো শিশু, কোনো কর্মজীবী নারী তার শিশুকে বুকের দুধ পান করাবেন না, তিনি সিজার হওয়ার পরে চলে আসবেন অফিস করতে।”