আগারগাঁওয়ে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ১১টায়
এদিন জেলায় জেলায় এ কর্মসূচি হওয়ার কথা।
ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনরত বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম কারিগরি ছাত্র আন্দোলন রোববার সারাদেশে জেলায় জেলায় সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিন সকালে ঢাকার পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা আগারগাঁওয়ে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন নতুন রাস্তায় সমাবেশ করবেন।
শনিবার গত রাতে কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মাশফিক ইসলাম দেওয়ান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রোববার জেলায় জেলায় মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কর্মসূচির নামে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন একে আমরা সমাবেশ বলছি। পরে সারাদেশের কর্মসূচি দিলে সেটিকে মহাসমাবেশ বলা হবে।
“বেলা ১১টায় আগারগাঁওয়ে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন নতুন রাস্তায় সমাবেশ শুরু হবে। ঢাকা পলিটেকনিকের দক্ষিণ গেইট থেকে আমরা সকাল ১০টায় মিছিল নিয়ে রওনা করব।”
এর আগে দুপুরে ছয় দফা দাবি আদায় ও কুমিল্লার কর্মসূচিতে ‘হামলার’ প্রতিবাদে ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে মানববন্ধন হয়। ওই কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা ইনস্টিটিউটের মূল ফটকের নামফলক লাল কাপড়ে ঢেকে দেন। শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিকে বলছেন ‘রাইজ ইন রেড’।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘মামা থেকে মাস্টার, মামা বাড়ির আবদার’, ‘ডুয়েট যদি একটা হয়, ডিপ্লোমারা যাবে কই?’, ‘কুমিল্লায় হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘কারিগরিতে নন টেক, চলবে না চলবে না’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে দাবি আদায়ে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে গণমিছিল করেন পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা।
আর বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে মশাল মিছিল করেন। এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হল–
• জুনিয়র ইন্সট্রাকটর পদে ক্রাফট ইন্সট্রাকটরদের প্রমোশনের হাই কোর্টের রায় বাতিলসহ ক্রাফট ইন্সট্রাকটর পদবি পরিবর্তন এবং ওই মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকে স্থায়ীভাবে চাকুরিচ্যুত করা। ২০২১ সালের বিতর্কিত ক্রাফট ইন্সট্রাকটর নিয়োগের জন্য নিয়োগবিধি অনতিবিলম্বে বাতিল করা, সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে নিয়োগ বাতিল করা এবং মামলার প্রধান কারিগর ক্রাফট ইন্সট্রাকটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
• ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স চার বছর মেয়াদী অব্যাহত রাখা এবং মানসম্মত সিলেবাস ও কারিকুলাম আধুনিক বিশ্বের আদলে প্রণয়ন করা।
• উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সমমান (১০ম গ্রেড) পদে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ও মনোটেকনোলজি (সার্ভেয়িং) হতে পাস করা শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কেউ আবেদন করতে পারবে না এবং এই পদ সংরক্ষিত করতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা ছাত্রদের ন্যূনতম ১০ম গ্রেডের বেসিক অর্থাৎ ১৬০০০ টাকা দেওয়া।
• কারিগরি শিক্ষা সংস্কার কমিটি প্রকাশ করে কারিগরি সেক্টর পরিচালনায় পরিচালক, উপ-পরিচালক, অধ্যক্ষ ও দায়িত্বে থাকা সকল পদে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনবলকে দায়িত্ব/নিয়োগ দেওয়া।
• কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের বিতর্কিত সকল নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন এবং কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল সকল শূন্য পদে পলিটেকনিক ও টিএসসিতে দক্ষ শিক্ষক ও দক্ষ ল্যাব সহকারীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা।
• ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ও মনোটেকনোলজি থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য আধুনিক বিশ্বের আদলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করার গেজেট পাস করতে হবে এবং বর্তমানে প্রস্তাবিত চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, নড়াইল, খাগড়াছড়ি) শতভাগ সিট নিশ্চিত করা।
