Published : 24 Jul 2025, 01:05 PM
‘শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা’ থেকে সুরক্ষা চেয়ে মা ও বাবার বিরুদ্ধে করা মেয়ের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
সেইসঙ্গে মা ও বাবাকে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার মহানগর হাকিম এম এ আজহারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
মেয়েটির পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সোমাইয়াদ শাহারিয়া ফিদা। বাবা-মায়ের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন।
বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে নিজের সুরক্ষা চেয়ে গত ২২ জুন এ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন রাজধানীর একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের ১৯ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী।
তার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ মে সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের বাসায় তাকে ‘শারীরিকভাবে আঘাত’ এবং ‘অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ’ করেন তার বাবা-মা। আঘাতে তার শরীরে জখম হয়। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও বাবা-মা তার ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, অপমান ও নির্যাতন’ করে যাচ্ছেন। পরিবারের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র ব্যবহারে তাকে বাধা দিচ্ছেন।
আরও বলা হয়, “পারিবারিক সম্পর্কের কারণে যে সকল সম্পদ বা সুযোগ সুবিধা ব্যবহারের অধিকার রয়েছে, তা থেকে বঞ্চিত করে এবং বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। তারা মৌখিক নির্যাতন, অপমান, অবজ্ঞা, ভীতি প্রদর্শন, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। শারীরিকভাবে আঘাত করে নির্যাতন হয়েছে, যার মাধ্যমে সহিংসতা ঘটেছে।”
এরপর বিচারক সমন জারি করলে গত ১০ জুলাই আদালতে হাজির হন মেয়েটির বাবা ও মা। ওইদিন উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানি হয়।
শুনানিতে সেই তরুণী বলেন, “তাদের (বাবা-মা) মাধ্যমে আমি পৃথিবীতে এসেছি, এটা আমার দোষ না। আমি তাদের পাপেট (পুতুল) নই। আমাকে কেন গালি দেবে। আমাকে শারীরিক, মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
“আমি খেতে পারি না, ঘুমাতে পারি না। আমাকে তারা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে। ব্রেইন অ্যান্ড মাইন্ড হাসপাতালে আমাকে দুই বছর রাখা হয়। সেখানে আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে। আমাকে কেন ওই হাসপাতালে রাখা হল জানতে চাই।”
আদালতে কথা বলার সময় তার মাকে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে শুনতে দেখা যায়। অন্যদিকে বাবা অপলক দৃষ্টিত মেয়ের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
পরে তরুণীর মা-বাবার আইনজীবী আবুল হোসেন আদালতে বলেন, “সে তার বাবা-মায়ের একমাত্র সম্বল, একমাত্র আশা ভরসার স্থল। বাবা-মাও চান তাদের মেয়ে সুরক্ষার আদেশ পাক। দেশের বাইরে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মেয়ের উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।”
শুনানি শেষে আদালত ২৪ জুলাই বিষয়টি আদেশের জন্য রাখে। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার অভিযোগটি খারিজ করে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার নির্দেশ দিল আদালত।