০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দিবসের তালিকায় ৫ অগাস্ট ও ১৬ জুলাই থাকল, ফিরল না ৭ মার্চ

চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পর ইউনূস সরকার ৭ মার্চ, ১৫ অগাস্টসহ যে আট জাতীয় দিবস বাতিল করেছিল, বিএনপি সরকার তার কোনোটি ফেরায়নি।

দিবসের তালিকায় ৫ অগাস্ট ও ১৬ জুলাই থাকল, ফিরল না ৭ মার্চ
ফাইল ছবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Mar 2026, 08:27 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:08 PM

মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের যে তালিকা করে গিয়েছিল, ছোটখাট কয়েকটি পরিবর্তন ছাড়া তা বহাল রেখেছে তারেক রহমানের বিএনপি সরকার।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন ও পালনে বুধবার জারি করা পরিপত্রে মোট ৮৯টি দিবস রাখা হয়েছে, এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণিতে ১৭টি, ‘খ’ শ্রেণিতে ৩৭টি এবং ‘গ’ শ্রেণিতে ৩৫টি দিবস থাকছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের ধারা অনুসরণ করে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবসের তালিকায় ৫ অগাস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ এবং ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবসের তালিকায় ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পর ইউনূস সরকার ৭ মার্চ, ১৫ অগাস্টসহ যে আট জাতীয় দিবস বাতিল করেছিল, বিএনপি সরকার তার কোনোটি ফেরায়নি।

জাতীয় দিবসের তালিকা

২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ওই আট দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়।

এর মধ্যে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস, ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, ৮ অগাস্ট শেখ হাসিনার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী, ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস, ১৮ অক্টোবর শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেল দিবস হিসেবে পালিত হত আওয়ামী লীগ আমলে। 

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ৪ নভেম্বর জাতীয় সংবিধান দিবস, ১২ ডিসেম্বর স্মার্ট বাংলাদেশ দিবসও সে সময় বাতিল করা হয়। 

অন্তবর্তী সরকারের সময়ে গতবছরের ২৫ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৫ অগাস্টকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’, ৮ অগাস্টকে ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ এবং ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

কিন্তু সমালোচনা হওয়ায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৮ অগাস্ট ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ পালন না করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সঙ্গে ১৬ জুলাইয়ের ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ এর নাম বদলে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ করা হয়।

বিএনপি সরকারের সময়ে এসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন পরিপত্রে সেই দুই দিবস একই নামে রাখা হয়েছে।

পরিবর্তন বলতে ১৭ অক্টোবর লালন সাঁই তিরোধান দিবস ‘ক’ শ্রেণির দিবস হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার।  

আর ‘গ’ শ্রেণির দিবসের তালিকা থেকে ২৩ মার্চের ‘বিএনসিসি ডে’ বাদ দেওয়া হয়েছে।  

পরিপত্র অনুযায়ী, ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবসগুলো ‘যথাযোগ্য মর্যাদায়’ উদযাপন করা হবে। ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবসগুলোর মধ্যে যেগুলো প্রতিবছর পালিত হয় বা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোও গুরুত্ব দিয়ে পালন করা যাবে। এ ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে ‘গ’ শ্রেণিভুক্ত দিবসগুলো সীমিত পরিসরে পালনের কথা বলা হয়েছে। এসব দিবসে কোনো বিশেষ সরকারি বরাদ্দ থাকবে না।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ের উৎসব ছাড়া অন্য দিবস পালনে বড় ধরনের সাজসজ্জা ও বিচিত্রানুষ্ঠান পরিহার করতে হবে। কর্মদিবসে সমাবেশ বা শোভাযাত্রাও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। একই তারিখে সমমুখী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস একত্রে পালনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন এই পরিপত্রে গত বছরের ১৪ অগাস্ট জারি করা আগের পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।