Published : 23 May 2026, 02:05 PM
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ডিএনএ প্রতিবেদন ঈদের আগে পাওয়া গেলে ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই বিচার শুরুর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, এই মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রীর ভাষ্য, "একটা ডিএনএ রিপোর্ট আসতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। কখনো কয়েক মাস লেগে যায়। আমরা আপনাদের বলছি, রামিসার ডিএনএ আসতে ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না আশা করি, ইনশাআল্লাহ। আমাদের ‘টপ প্রায়োরিটির’ মধ্যে এটা আছে।
"২৫ তারিখ থেকে সরকারি ছুটি। যদি ডিএনএ রিপোর্টটা তার আগে পেয়ে যাই, আমরা আশা করি, তদন্ত যে গতিতে আগাচ্ছে আমরা ঈদের আগে যদি ‘চার্জশিটটা’ দিতে পারি, ঈদের পরপরই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করতে যা যা কর্মসূচি আছে তা তা গ্রহণ করে এই বিচার কার্যক্রম তরান্বিত করতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যতটা ‘ডিউ ডেলিজেন্স’ দেখানো সম্ভব, সাধারণ জনগণ, দেশে-বিদেশে মানুষ এই বিচার শেষ করতে যতটা প্রত্যাশা করে, আমরা আশা করি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হব।"
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি বলেছিলেন।
অভিযোগপত্র কবে নাগাদ হতে পারে এবং বিচার শেষ হতে কতদিন লাগতে পারে, এ প্রশ্নে এদিন আইনমন্ত্রী বলেন, "আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, একটা বিচার যত দ্রুত সম্ভব, আমরা তার মধ্যেই করব। আমাদের সামনে একটা উদাহরণ হিসেবে আছে মাগুরার আছিয়ার মামলা।
"এক মাসের মধ্যেই মনে হয় শেষ করা সম্ভব হয়েছিল। তিন মাস লেগেছিল। আমরা মনে করি, অতদিন লাগার কথা না। ওটা সম্ভবত এক মাস লেগেছিল। অর্থাৎ ‘চার্জশিট’ জমার পর বিচারকার্য শেষ হতে এক মাস লেগেছিল।"
আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধে ডিএনএ প্রতিবেদনের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
আসাদুজ্জামান বলেন, "ডিএনএ টেস্ট না করে যদি ‘চার্জশিট’ দেয় পুলিশ, যে কেউ বলতেই পারেন, ১৬৪ (স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি) হয়ে গেছে, এরপর ডিএনএ করে কী হবে।
"এ ধরনের মামলায় ডিএনএ ‘ইজ আ ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট পিস অব এভিডেন্স’। আমার যেখানে ডিএনএ করার সুযোগ আছে, আমরা সেখানে কেন করব না?"
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে আট বছর বয়সী শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ বলেছে, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন।
পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেছেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলের সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।
আরও পড়ুন-
সংক্ষিপ্ততম সময়ে শিশু রামিসা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র: স্বরাষ্ট্রম
সংক্ষিপ্ততম সময়ে শিশু রামিসা হত্যা মামলার অভিযোগপত্র: স্বরাষ্ট্রম
রামিসা হত্যা: এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ আই
'পুশ-ইন' ঠেকাতে সতর্ক বিজিবি, শুভেন্দুর 'অনুপ্রবেশকারী' ফেরতের জব
পল্লবীতে শিশু হত্যা: দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশা অ্যাটর্নি জেনারেলের
রামিসা হত্যা: এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ আই