জঙ্গি ছিনতাইয়ের ৫ আসামি আরেক মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে
যাত্রাবাড়ী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেক মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের এই পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় রিমান্ডে থাকা ১০ জনের মধ্যে পাঁচজনকে আরেক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের এই পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে রিমান্ড চাওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর হাকিম শফি উদ্দিন গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
এ পাঁচ আসামি হলেন- খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল, মোজাম্মেল হোসেন সাইমন, আরাফাত রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ ও আ. সবুর।
এদিন ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাদের আদালতে আনা হয়। রিমান্ড শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
এর আগে ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের মামলায় এই পাঁচ আসামিসহ ১০ জনকে ১০ দিনের রিমান্ডে পেয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।
বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচজনকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় রিমান্ড চাওয়া হয় এবং বাকিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
কারাগারে যাওয়া পাঁচ আসামি হলেন- শাহিল আলম, শাহ আলম, বিএম মজিবুর রহমান, সুমন হোসেন পাটোয়ারী ও রশিদুন্নবী।
গত ২০ নভেম্বর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ফটক থেকে পুলিশের চোখে স্প্রে মেরে ও মারধর করে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আনসার আল ইসলামের দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
সেদিন ওই দুই জঙ্গিসহ অন্য আসামিদের মোহাম্মদপুর থানার মামলায় আদালতে হাজির করা হয়েছিল। জঙ্গি ছিনতাই ঘটনার পর কারাগারে থাকা ১০ আসামিকে কোতোয়ালী থানার দায়ের করা জঙ্গি ছিনতাইয়ের মামলায় রাতেই ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে আবার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এ মামলার রিমান্ড শেষে ওই ৫ সদস্যকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ রিমান্ড আবেদন করে সিটিটিসি।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা মুসাদ্দিমুল হক বলেন, এ মামলায় গ্রেপ্তার এজাহারভুক্ত আসামি জাকির হোসেন ওরফে ইব্রাহিমকে গত ১৭ নভেম্বর দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
আবেদনে বলা হয়, “রিমান্ডে থাকাকালে সে জানায়, বর্তমান আনসার আল ইসলামের মাস্টারমাইন্ড খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল, মোজাম্মেল হোসেন সাইমন, আরাফাত রহমান, শেখ আব্দুল্লাহ, আ. সবুরসহ আরও ২০/২৫ জন সদস্য পুরো সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তারা জেলখানা থেকে অনলাইনভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে আনসার আল ইসলামের সদস্যরা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
“গত ২০ নভেম্বর সংগঠনের সদস্যরা আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দুর্ধর্ষ আসামি ছিনতাইয়ের মত ঘটনা ঘটায়।“
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের রিমান্ড চান তদন্ত কর্মকর্তা বলে জানান মহানগর পুলিশের অপরাধ তথ্য ও তদন্ত বিভাগের উপ কমিশনার জসিমউদদীন।
