Published : 15 Jul 2026, 06:43 PM
একটি এয়ারলাইন্স কোম্পানির এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমু মিথ্যা মামলা ও হলফনামা দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে উল্টো মামলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দিয়ে বলেন, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা করেছেন। হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলার নির্দেশ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. সায়েম জানিয়েছেন।
শিমুর বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, বছরখানেক আগে তিনি বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
পুলিশের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, শিমুর মামলার এজাহারে তুলে ধরা ফেইসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে সেখানে। গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে ‘বিয়ের প্রলোভন’ দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা’ মামলা করেছেন।
এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করা হয়। এ ধারাটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের প্রসঙ্গে।
১৩ এর (১) উপধারায় বলা হয়, “এই আইনের অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে এই আইনের কোনো ধারার অধীন মামলা বা অভিযোগ দায়েরের কোনো ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ নাই জানিয়াও মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা বা অভিযোগ দায়ের করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।”