Published : 31 Dec 2025, 11:53 PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেই কোনো স্থাবর সম্পদ, নেই মামলা; আছে ৩২ লাখ টাকার সম্পদ আর সাড়ে ৩ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ।
২৭ বছর বয়সী এ নেতা এখন পেশায় পরামর্শক, এর আগে অন্তবর্তীকালীন সরকারে ছয় মাস উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলেছেন। বছরে আয় ১৬ লাখ টাকা।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে নাহিদ ১৩ লাখ টাকার বেশি আয়ের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ টাকার বেশি।
ঢাকা-১১ আসন থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লড়তে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য তুলে ধরেছেন নাহিদ।
মনোনয়নপত্র জমার সময় হলফনামায় প্রার্থীর ১০ ধরনের তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রমাণিত হলে ভোটের পরেও সদস্য পদ বাতিলের বিধান রয়েছে আইনে।
হলফনামায় নাহিদ
হলফনামায় নাহিদের স্থায়ী ঠিকানা ঢাকা উত্তর সিটির বাড্ডার বড় বেরাইদ। থাকছেন দক্ষিণ সিটির গোড়ান এলাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে।
স্নাতক সম্পন্ন করা নাহিদ পেশায় ‘পরামর্শক’, আগে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা।
নিজের ২৬ লাখ টাকা ও স্ত্রীর ১২ লাখ টাকার অর্জনকালীন ‘অস্থাবর সম্পদের’ কথা তুলে ধরেছেন এনসিপি প্রধান। স্থাবর সম্পদের হিসাবের স্থলে ‘প্রযোজ্য নয়’ লেখা হয়েছে।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে, নিজের নগদ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর আছে ২ লাখ টাকা।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা।
নিজের অর্জনের পৌনে ৮ লাখ টাকা মূল্যের অলঙ্কার এবং স্ত্রীর রয়েছে ১০ লাখ টাকার গয়না।
ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ১ লাখ টাকার ও আসবাব রয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার।
ঋণ ও আয়কর
নাহিদের ডাচ বাংলা ব্যাংকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে (ঋণের ধরণ-নির্ভরশীল ব্যক্তি/স্ত্রী)।
গত অর্থ বছরে আয়ের পরিমাণ ১৩ লাখ ৫ হাজার ১৫৮ টাকা, বিপরীতে আর আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা। আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা।
সমন্বয়ক থেকে উপদেষ্টা, এখন তরুণ রাজনৈতিক নেতা
২০২৪ সালে ৩৬ দিনের যে আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন, তার অগ্রভাবে ছিলেন নাহিদ ইসলাম। তখন তিনি ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন নাহিদ; ডাক নাম ফাহিম।
ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করা ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি’র কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ছিলেন নাহিদ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এই সংগঠনের অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা হন নাহিদ। পরে পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়ক হন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছাড়ার পর সম্পদের হিসাবও দেন এ তরুণ নেতা।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ফেইসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, উপদেষ্টা পদে ছয় মাস পাঁচ দিন দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংক হিসাবে ১০ লাখ ৬ হাজার ৮৮৬ টাকা জমা এবং ৯ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৮ টাকা উত্তোলন করেছেন। সোনালী ব্যাংক ছাড়া তার অন্য কোনো ব্যাংক হিসাব নেই।
উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বা তার পরিবারের কেউ কোনো সম্পদ কেনেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন-
আগে ব্যাংক হিসাবই ছিল না, উপদেষ্টা হয়ে জমি-ফ্ল্যাটও কিনিনি: নাহিদ
জামায়াতের ছেড়ে দেওয়া ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের মনোনয়নপত্র জমা