Published : 06 Jun 2026, 05:00 PM
‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে গাড়ি চালককে হত্যার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন— এস এম সালমান (২৯), জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ওরফে আনিবা জারা (২১), আদিব ইসলাম (১৯) ও সবুজ মিয়া (৩৫)।
শনিবার দুপুরে ঢাকার আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাদের গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পিআইবির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান এ ঘটনাকে 'ক্লুলেস' হত্যাকাণ্ড ছিল বলে মন্তব্য করেন।
নিহত গাড়ি চালকের নাম লোকমান সরদার (৩৮)। গত ১ জুন দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় তুরাগ নদীতে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর তার লাশ পাওয়া যায়।
এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, "লাশ পাওয়ার পরের দিন স্ত্রী ফারজানা আক্তার হত্যা মামলা করেন। মামলাটি সম্পূর্ণ ‘ক্লুলেস’ ছিল।"
নির্মমভাবে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে এবং গায়ের চামড়া ছিলে তাকে হত্যা করা হয় বলে পরে পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, “চালক লোকমানকে টংগীর পাখির বাজার এলাকার হোন্ডা রোডে ডেকে নেন সালমানের কথিত স্ত্রী মীম। সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী সালমান, আদিব, রাকিব ও সবুজসহ আরো চার থেকে পাঁচজন লোকমান হোসেনকে মাদক সেবনের কথা বলে মারধর করে। পরে তার কাছ থেকে মুক্তিপন হিসেবে ১০ হাজার টাকা আদায় করে।"
এরপরই তাকে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে তারা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় বলে ভাষ্য এই পিবিআই কর্মকর্তার।
তিনি বলেন, “কক্সবাজারের কলাতলী এলাকা থেকে আদিব ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। সালমান ও মীমকে ধরা হয় ঢাকার খিলক্ষেতের পূর্ব নামাপাড়া থেকে। সবুজ মিয়া গ্রেপ্তার হন টংগীর মাজার বস্তি এলাকায়। আর গাজীপুরের গাছা থানায় পাওয়া যায় লুট হওয়া কার।"
সালমান ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন জানিয়ে পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, "কখনো স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে, কখনো ভাই-বোন, কখনো বন্ধু পরিচয় দিয়ে সালমান ও মীম বাসা ভাড়া নিত। সেখানে তারা দেহ ব্যবসা করে কিংবা মাদককের প্রলোভন দিয়ে লোকজনকে ডেকে সবকিছু লুটে নিত।”