১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চালককে খুন করে অটোরিকশা ছিনতাই: ৩ জনের প্রাণদণ্ড

ছিনতাই করা অটোরিকশা জেনেও কম মূল্যে কেনার দায়ে এক গ্যারেজ মালিককেও কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

চালককে খুন করে অটোরিকশা ছিনতাই: ৩ জনের প্রাণদণ্ড
আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Aug 2026, 06:25 PM

Updated : 16 Sep 2026, 05:12 PM

ঢাকার কেরাণীগঞ্জে বছর পাঁচেক আগে জুয়েল নামে একজনকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে প্রাণদণ্ড দিয়েছে আদালত।

সোমবার ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মুনির হোসাঈন রায় ঘোষণা করেন বলে এ আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজিব জানিয়েছেন।

ওই তিনজন হলেন- আলী হোসেন, লুৎফর রহমান ও হাসান। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রিয়াজুল ইসলাম সজিব বলেন, ছিনতাইয়ের অপরাধে এ তিনজনকে ৫ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ছিনতাই করা অটোরিকশা জেনেও কম মূল্যে কেনার দায়ে গ্যারেজ মালিক আহমদুর রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অর্থদণ্ডের মধ্যে ১৫ লাখ টাকা নিহতের পরিবার ও সন্তানদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রায় ঘোষণার আগে আলী হোসেন, লুৎফর রহমান ও হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আহমদুর রহমান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, কেরাণীগঞ্জে ২০২০ সালের ১৫ অক্টোবর বিকালে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন জুয়েল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামিরা রুহিতপুর বাজারে অবস্থান নেন। সেখান থেকে আলী হোসেন ও লুৎফর রহমান যাত্রী বেশে জুয়েলের অটোরিকশা ভাড়া করেন। তারা ভাষানচর কাঠবাগানের দিকে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর যোগ হন হাসান ও এক কিশোর। সেই কিশোর অটোরিকশায় বসে থাকে, আর আসামিরা চালককে জুয়েলকে হাত-পা-মুখ চেপে ধরে ধইঞ্চা ক্ষেতে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যান আসামিরা।

জুয়েল বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে ধইঞ্চা ক্ষেতে তার লাশ পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় জুয়েলের বোন সাবিনা কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০২১ সালে চারজনের নামে অভিযোগপত্র ও কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দেন কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার এসআই মাহমুদ আলম। ২০২২ সালের ২৮ জুলাই বিচার শুরু হয়। ১৬ জন সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক শেষে রায় এল।