Published : 04 Mar 2026, 11:40 PM
চিকিৎসায় অবহেলার কারণে চারজন রোগীর মৃত্যু এবং একজনকে রোগ নির্ণয়ের ভুল প্রতিবেদন দিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলায় ১০ চিকিৎসকের পূর্ণ নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চিকিৎসক নিবন্ধনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল, বিএমডিসি।
বিভিন্ন সময়ে আসা এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়ায় এ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি রোববার আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিবন্ধন স্থগিত করা চিকিৎসকরা হলেন-রাজধানীর মালিবাগের জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিক্যাল চেকআপ সেন্টারের ইশতিয়াক আজাদ, মাহবুব মোরশেদ ও এস এম মুক্তাদির; বাড্ডার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তাসনুভা মাহজাবীন ও সৈয়দ সাব্বির আহমেদ; ঝিনাইদহের শৈলকুপা প্রাইভেট শিশু হাসপাতাল এবং ছন্দা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তৌহিদুর রহমান ও সোহেলী ইসলাম; টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের আলোক হেলথ কেয়ারের মেরিনা জেসমিন, মো. শাইখুল আরাফাত ও মো. এছহাক আলী।
এর মধ্যে ডা. ইশতিয়াক আজাদ ও ডা. এস এম মুক্তাদিরের নিবন্ধন দুই বছর এবং ডা. তৌহিদুর রহমান ও ডা. সোহেলী ইসলামের এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বাকিদের নিবন্ধ স্থগিত করা হয়েছে ছয় মাসের জন্য। এ সময়ের জন্য তাদের নাম কাউন্সিলের রেজিস্টার থেকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এ সময় তারা চিকিৎসক হিসেবে কোথাও চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন না এবং নামের শেষে চিকিৎসক লিখতে পারবেন না। এই স্থগিতাদেশ ১ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।
জে এ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সুন্নাতে খাৎনা করাতে গিয়ে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ১০ বছর বয়সি আহনাফ তাহমিদ আয়হামের মৃত্যু হয়। আয়হাম আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
এ ঘটনায় চিকিৎসক ইশতিয়াক আজাদ, মাহবুব মোরশেদ ও এস এম মুক্তাদিরের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে।
একই বছরের ৭ জানুয়ারি বাড্ডায় ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খাৎনা করাতে গিয়ে ৫ বছরের আয়ানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্থগিত করা হয়েছে ডা. তাসনুভা মাহজাবীন ও ডা. সৈয়দ সাব্বির আহমেদের নিবন্ধন।
একই বছরে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নিবন্ধনহীন অবৈধ ক্লিনিক শৈলকুপা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ছন্দা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশনে মারা যান ২০ বছর বয়সি রিয়া খাতুন। এর কিছুদিন আগে একই প্রতিষ্ঠানে সুখজান নামে আরেক প্রসূতির মৃত্যু হয়।
এ দুটি ঘটনায় ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তৌহিদুর রহমান ও সোহেলী ইসলামের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আলোক হেলথ কেয়ারে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করেছিলেন দিনমজুর জামাল হোসেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল তার পিত্তথলিতে পাথর রয়েছে। পরপর দুইবার একই প্রতিবেদন দেওয়ার পরে ধারদেনা করে অস্ত্রোপচারের জন্য ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার পর চিকিৎসক জানান, তার পিত্তথলি নেই।
জামাল হোসেন অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পরীক্ষার নামে তার কাছ থেকে প্রায় ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসক মেরিনা জেসমিন, মো. শাইখুল আরাফাত ও মো. এছহাক আলীর নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে।