Published : 12 Dec 2025, 04:04 PM
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক গুলিবিদ্ধ শরীফ ওসমান বিন হাদিকে ‘হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল’ বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
গত নভেম্বর মাসে ৩০টি বিদেশি নম্বর থেকে হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন হাদি।
১৩ নভেম্বর গভীর রাতে দেওয়া ওই ফেইসবুক পোস্টে আওয়ামী লীগকে দায়ী করে হাদি লিখেন, “গত তিন ঘণ্টায় আমার নম্বরে আওয়ামী লীগের খুনিরা অন্তত ৩০টা বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করেছে। যার সামারি হলো- আমাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তারা আমার বাড়িতে আগুন দেবে। আমার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণ করবে এবং আমাকে হত্যা করবে।
“১৭ তারিখ খুনি হাসিনার রায় হবে। ১৪০০ শহীদের রক্তের ঋণ মেটাতে কেবল আমার বাড়ি-ঘর না, যদি আমাকেও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, ইনসাফের এই লড়াই হতে আমি এক চুলও নড়বো না, ইনশাআল্লাহ।”
হাদী আরো লিখেছিলেন, “এক আবরারকে হত্যার মধ্য দিয়ে হাজারও আবরার জন্মেছে এদেশে। এক হাদিকে হত্যা করা হলে তাওহীদের এই জমিনে আল্লাহ লক্ষ হাদি তৈরি করে দিবেন। স্বাধীনতার এই ক্রুদ্ধ স্বরকে কোনোদিন রুদ্ধ করা যাবে না। লড়াইয়ের ময়দানে আমি আমার আল্লাহর কাছে আরও সাহস ও শক্তি চাই। আরশ ওয়ালার কাছে আমি হাসিমুখে শহীদি মৃত্যু চাই।
“আমার পরিবার ও আমার কলিজার সহযোদ্ধাদেরকে আল্লাহ তায়ালার কুদরতি কদমে সোপর্দ করলাম। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে। হাসবিয়াল্লাহ।”
শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরে সমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিউইতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ।
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, “আমি শুনেছি উনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।"
ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “জুমার নামাজের পর বেলা ২টা ২৫ মিনিটে বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।”

দুর্বৃত্তরা তিনটি মোটরসাইকেলে করে এসেছিল বলে জানান তিনি।
হাদির একজন সহযোদ্ধা বলেন, জুমার নামাজের পর মসজিদে তাদের লিফলেট বিলি কর্মসূচি ছিল। কথা ছিল লিফলেট বিলি শেষে সবাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হয়ে দুপুরের খাবার খাবেন, আলোচনা করবেন। এর মধ্যেই হাদির ওপর হামলার খবর আসে।
চিকিৎসকের বরাতে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, “ওসমান হাদিকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে রেখে তার চিকিৎসা চলছে।”
জুমার নামাজের আগে বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে হাদি ফেইসবুকে লেখেন, “যেহেতু ঢাকা-৮ এ আমার পোস্টার-ফেস্টুন কিছুই নাই, তাই আমার এখন ছেঁড়া-ছিঁড়িরও চাপ নাই। দুদকের সামনে থেইকা জুম্মা মোবারক।”
ওসমান হাদির সতীর্থরা ঢাকা মেডিকেলে ‘বি নেগেটিভ’ রক্ত খুঁজছেন।

তারা বলছেন, ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে হাদির প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসকেরা রক্ত জোগাড় করতে বলেছেন।