Published : 12 Dec 2025, 02:50 PM
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা হয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট রোডে আক্রান্ত হন হাদি। তখনই তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিকাল ৫টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তার মাথার ভেতরে গুলি আছে। বর্তমানে অপারেশন থিয়েটারে তার সার্জারি চলছে।”
হাদিকে ‘লাইফ সাপোর্ট’ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক সাব্বির হোসেন সাগর ফেইসবুকে লিখেছেন, “হাদি ভাইয়ের
জিসিএস-৩, বাইল্যাটারার পিউপিল ডাইলেটেড। মেডিকেলের ভাষায় যেটা আসলে ব্রেইন ডেথ।
“যদি কোনো মিরাকুলাস কিছু ঘটে, তাহলে হয়ত আমরা তাকে আবার আমাদের মাঝে ফিরে পাব। আমাদের কাছে যা অসম্ভব আল্লাহর কাছে তা কেবলই ‘কুন’। জুমার দিন... সবার সর্বোচ্চ টুকু দিয়ে আল্লাহর কাছে চাইতে থাকি... আল্লাহ চাইলে তো ফিরিয়েও দিতে পারেন।”

ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “জুমার নামাজের পর বেলা ২টা ২৫ মিনিটে বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়।”
হামলাকারীরা তিনটি মোটরসাইকেলে করে এসেছিল বলে জানান তিনি।
হাদিকে হাসপাতালে আনা একজন বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়কের বাম কানের পাশে একটি গুলি করা হয়। একই তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শরীফুল ইসলামও।
হাদির একজন সহযোদ্ধা বলেন, জুমার নামাজের পর মসজিদে তাদের লিফলেট বিলি কর্মসূচি ছিল। কথা ছিল লিফলেট বিলি শেষে সবাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হয়ে দুপুরের খাবার খাবেন, আলোচনা করবেন। এর মধ্যেই হাদির ওপর হামলার খবর আসে।
ওসমান হাদির সতীর্থরা ঢাকা মেডিকেলে ‘বি নেগেটিভ’ রক্ত খুঁজছেন। তারা বলছেন, ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে হাদির প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসকেরা রক্ত জোগাড় করতে বলেছেন।
ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী।
চিকিৎসকের বরাতে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, “ওসমান হাদিকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে রেখে তার চিকিৎসা চলছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন।”

পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডের ডিআর টাওয়ারের সামনে মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা অবস্থায় হাদিকে গুলি করে বলে জানান পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
তিনি বলেন, “কারা কী কারণে তাকে গুলি করেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আমরা অপরাধীদের শনাক্তে কাজ করছি।”
জুমার নামাজের আগে বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে হাদি ফেইসবুকে লেখেন, “যেহেতু ঢাকা-৮ এ আমার পোস্টার-ফেস্টুন কিছুই নাই, তাই আমার এখন ছেঁড়া-ছিঁড়িরও চাপ নাই। দুদকের সামনে থেইকা জুম্মা মোবারক।”
ঢাকা-৮ আসন মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, রমনা ও শাহবাগ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত। তিনি এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বিকাল ৪টার দিকে হাদিকে দেখতে ঢাকা মেডিকেলে আসেন।
জামায়াত থেকে এ আসনে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন। আর বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটি থেকে সেখানে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ওসমান হাদির হাত ধরে গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। ‘সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ’ সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ওসমান হাদি ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর বলেন, “এই রায় পুরো পৃথিবীর জন্য নজির স্থাপন করেছে।”

গত জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বলেছিলেন, বিএনপি যদি ‘পুরনো ধারায়’ রাজনীতি করে ক্ষমতায় আসে, তবে তারা দুই বছরও ক্ষমতায় টিকতে পারবে না। একই অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন হাদি।
এর বাইরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা এবং দৃশ্যত পরিবর্তনের ঘাটতির সমালোচনা করে একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন।