Published : 11 Mar 2026, 09:46 PM
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল (থার্ড টার্মিনাল) ৯ মাসের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
দ্রুত সময়ের মধ্যে থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বৈঠকের নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে গেলেও আমরা যেটা দেখেছি যে, ৬ থেকে ৯ মাস লাগবে। ৯ মাসের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”
বিএনপি সরকার শপথ নেওয়ার পাঁচদিনের মাথায় গেল ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শাহজালাল বিমান বন্দরের থার্ড টার্মিনাল নিয়ে বৈঠক করেন। সে বৈঠকে তিনি টার্মিনালটি চালুর নির্দেশ দেন। তবে কবে নাগাদ টার্মিনাল চালু হতে পারে সে বিষয়ে নির্দেশনা না পাওয়ার কথা বলেছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
২০১৭ সালে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর। ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থার্ড টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেসময় বেবিচক জানিয়েছিল, ২০২৪ সালেই পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হবে থার্ড টার্মিনালের। কিন্তু তা আর হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারও দফায়-দফায় চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত থার্ড টার্মিনাল চালু হয়নি। মূলত ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং অপারেশনের বিষয়ে’ সিদ্ধান্তে না পৌঁছাতে পারা এবং টার্মিনাল ভবনের ভেতরে কিছু কাজের কারিগরি ত্রুটির জন্যই এই টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হয়নি।
চীনা দূতের সঙ্গে বৈঠকে পর্যটন খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথাও বলেছেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পর্যটন খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল, তবে সেটির কোনো অগ্রগতি হয়নি। সে প্রসঙ্গেই তারা এসেছেন।
“পর্যটন শিল্পে তারা বিনিয়োগ করতে চায়। বিশেষ করে আমাদের সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে উন্নীত করতে তাদের বিনিয়োগকারীরা একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে চায়—কীভাবে এটিকে একটি আন্তর্জাতিক উপযোগী সৈকতে রূপ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”
বিমান চলাচল নিয়ে আলোচনার কথাও বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “তাদের কিছু ফ্লাইট আছে আমাদের সঙ্গে। সপ্তাহে ১২টা ফ্লাইট যায়। সেক্ষেত্রে তারা ৩টি ফ্লাইট আরও বর্ধিত করতে চায়।
“তারা তিনটি অতিরিক্ত ফ্লাইটের জন্য ফ্রিকোয়েন্সি চেয়েছে। আমরা তাদের আবেদন করতে বলেছি। বিষয়টি যাচাই করে দেখব। এতে দুই দেশের যাতায়াত সুবিধা বাড়বে এবং পর্যটন ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।”
নতুন ফ্লাইটগুলোর রুট সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দুটি ফ্লাইট হবে গুয়াংজুতে এবং একটি বেইজিংয়ে।”
কবে থেকে এসব ফ্লাইট চালু হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তারা আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করবে। এরপর বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এলে সিভিল এভিয়েশন থেকে অনুমতি দেওয়া হবে।”
চীনের সঙ্গে অন্য কোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চীনের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু তার বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়নি।
“তারা দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে পিপিপি মডেলে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করার কথা বলেছিল। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই তারা আবার আলোচনা করতে এসেছে।”
কক্সবাজারে পর্যটন সুবিধা বাড়াতে সম্ভাব্যতা যাচাই বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা বলেছি, আপনারা প্রস্তাব দিন। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। যদি এটি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হয়, তাহলে আমরা তা বিবেচনা করব।”
আগের খবর: