Published : 14 Mar 2026, 08:00 PM
ট্রেনে ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন বেলা ২টা পর্যন্ত ২৩ ট্রেনের মধ্যে পাঁচটিই ছেড়েছে দেরিতে। সে কারণে ঢাকার কমলা রেলস্টেশনে বেশ ভিড় দেখা যায়।
শনিবার সকালে ট্রেন দেরিতে ছাড়ায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়লেও দুপুরের পর আর কোনো ট্রেনের দেরি হয়নি।
একে সময়সূচি বিপর্যয়, এমনকি দেরি বলতেও রাজি নন রেলওয়ে কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এই বিলম্ব ‘তেমন’ কিছু না।
দুপুর ২টায় কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেন বিলম্বে ছেড়ে যায়নি। আধা ঘণ্টা, বিশ মিনিট যে কয়েকটা হয়েছে, সেটাকে আমরা বিলম্ব ধরি না। বলতে পারেন, এখনও পর্যন্ত নির্বিঘ্নে যাত্রীরা ট্রেন ভ্রমণ করছেন।”

সকালে ৫ ট্রেনের বিলম্বে যাত্রা
শুক্রবার ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। অগ্রিম টিকেট ছাড়ার প্রথম দিন, অর্থাৎ ৩ মার্চ যারা টিকেট কেটেছিলেন, তারা ঢাকা ছেড়েছে সেদিন।
শবে কদরের ছুটির পরদিন ১৮ মার্চ কর্মদিবস থাকলেও সরকার নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করায় এবার ঈদের সাত দিনের অবকাশ পেয়েছে মানুষ।
এছাড়া ঈদের ছুটিতে আগেভাগে বাড়ির যাওয়ার সুযোগ হয়েছে স্কুল ছুটি থাকাতে।
ফলে ভোগান্তি এড়িয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকেট কাটা অনেকে শনিবার সকালে স্টেশনে পৌঁছে হতাশ হন।
ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ৩৫ মিনিট দেরিতে ৬টা ৫০ মিনিটে কমলাপুর ছেড়ে যায়।
জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাজারগামী তিস্তা এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ২০ মিনিটের বেশি দেরিতে সেটি ৭টা ৫০ মিনিটের পরে কমলাপুর ত্যাগ করে।
মহানগর প্রভাতী ট্রেনটি ৭টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি এক ঘণ্টার বেশি দেরিতে ৮টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে যায়।
লালমনিরহাটগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা আধা ঘণ্টার বেশি দেরিতে ৯টার পর ছেড়ে যায়।
একইভাবে প্রায় ২০ মিনিট বিলম্বে ঢাকা থেকে তারাকান্দিগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস কমলাপুর থেকে ছেড়েছে।

আগে এসেও ভোগান্তিতে
শনিবার সকাল থেকেই ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ কেউ এসেছেন পরিবার-পরিজনের সদস্যদের আগেই গ্রামে পাঠাতে।
স্টেশনে দেখা যায়, কেউ পরিবার নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে ভোগান্তি এড়াতে এক সপ্তাহ আগেই বাড়ি যাওয়ার টিকেট নিয়ে স্টেশনে এসেছে।
চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য স্টেশনে এসেছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনিম জান্নাত সায়ান।
তিনি বলেন, “মা আর দুই ভাই-বোন ঢাকায় থাকি, আমরা দুজনেই পড়াশোনা করি। প্রথমদিকে ভিড় এড়াতে, ভোগান্তিতে যাতে না পড়তে হয়, সে জন্য আজকের টিকেট কেটেছি। ৭টার দিকেই এসেছি। এখন ট্রেন ছাড়ার সময়েরও ৫০ মিনিট পার হয়ে গেছে, টেন স্টেশনে আসেনি। দেখি, কতক্ষণ লেগে যায় ট্রেন ছাড়তে।”
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনে লালমনিরহাট যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদি হাসানও একই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “এবার আগেই ছুটি নিয়েছি, ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে ট্রেনে ভ্রমণ করলে অনেক সময় ট্রেন দেরিতে ছাড়ে। বিলম্ব হলে গ্রামে পৌঁছাতে দুই দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তাই আগেভাগেই পরিবার নিয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছি।
“এখনও দেখি ট্রেনে বিলম্ব হচ্ছে। তবে স্টেশনের লোকজন বললো ট্রেন আসতে বেশি দেরি হবে না।”

দুপুরের পরে সময়ের আগেই প্লাটফর্মে ট্রেন
সকালে অনেকে ভোগান্তিতে পড়লেও দুপুরের পরে আর বসে থাকতে হয়নি কোনো যাত্রীকে।
স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের তেমন কোনো চাপ নেই। ট্রেন আসার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা ট্রেনে উঠে বসে পড়ছেন।
ঢাকা চট্টগ্রাম রেলপথের সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিকাল সাড়ে ৪টায় কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও প্লাটফর্মে এসে পৌঁছায় বেলা ৩টার দিকেই।
এই ট্রেনের যাত্রী ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরাজ হোসেন চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য স্টেশনে আসেন বেলা ৩টার পর পর। এসেই দেখেন ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ট্রেনে ওঠে বসে থাকতে রাজি নন তিনি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ট্রেন ছাড়তে আরও দেড় ঘণ্টা সময় লাগবে, এত আগে উঠে বসে থাকবো কেন। এখানেই (প্ল্যাটফর্ম) ভালো।”

দুই স্তরে টিকেট পরীক্ষা
কমলাপুর স্টেশনের প্রবেশপথে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঢোকার আগমুহূর্তে এবং প্ল্যাটফর্মে ঢোকার আগমুহূর্তে দুই স্তরে টিকেট পরীক্ষা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে স্টেশনে ঢুকতে প্রবেশমুখে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
সুবর্ণ এক্সপ্রেসের টিকেট পরীক্ষক (টিটিই) সাজেদুল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “টিকেট ছাড়া ট্রেনে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। ট্রেনে অনেকেই ‘স্ট্যান্ডিং’ টিকিট নিয়ে উঠছে। কেউ যদি পরিবারের তিনজন বা দুইজনের জন্য টিকিট কেটে থাকেন, কিন্তু পরিবারের সদস্য একজন বেশি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ায় একটি স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”