Published : 19 Jul 2026, 03:47 PM
বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল দেখানোর নামে ‘লুটপাট’ হওয়ার কথা বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি দাবি করেন, এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল দেখানোর খরচ প্রায় ‘শূন্য’। সে তুলনায় ২০২২ সালে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “২০২২ এর বিশ্বকাপের সঙ্গে ২০২৬ এর বিশ্বকাপের আমাদের যে খরচ, সেটা একটু তুলনা করতে হবে আপনাদেরকে। এবং এ তুলনাটা সামনে আনলেই বোঝা যাবে যে শেখ হাসিনার আমলের বিশ্বকাপ, সেখানে কীভাবে বিশ্বকাপ দেখানোর নামে দুর্নীতি হয়েছে, টাকা লুটপাট হয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগীরা ব্যবহার করেছে।
“রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্ষেত্রে যেভাবে লুটপাট হয়েছে, এখানেও কীভাবে হয়েছে।”
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আর এ সরকারের আমলে, আমাদের নেতা তারেক রহমানে সরকারের আমলে তার নির্দেশই ছিল, মন্ত্রী হিসেবে আমার প্রতি যে খেলা দেখাতে হবে, কিন্তু দেশের এ করুণ অর্থনৈতিক অবস্থার ক্ষেত্রে কোনো টাকা খরচ করা যাবে না।”
ফিফার সঙ্গে লাগাতাল দরকষাকষি করার এবং বিভিন্নজনের কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মাত্র ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে ফিফার কাছ থেকে সরাসরি বিটিভি নিয়েছে। যেখানে গতবার ছিল দুইজন মধ্যস্বত্বভোগী। একজন ছিল সিঙ্গাপুরে, একজন ছিল তমা কনস্টাকশন।
এরপর আবার সেই মধ্যস্বত্বভোগীকে সরকারের ট্যাক্সের টাকা, জনগণের ট্যাক্সের টাকা দেওয়া হয়েছে ৯৮ কোটি টাকা। আর বেসরকারিভাবে বিক্রি করা হয়েছে ২২ কোটি, আর ১৭ কোটি, দুটি মিলে যা হয়।”
তিনি বলেন, “১৪০ কোটি টাকা টার্নওভার ছিল, ফিফার পাওনা বাদে বাকিটাই লুট। এবার ফিফার পাওনাটাই শুধু আমরা শোধ করছি। তাও তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, বিটিভির উদ্যোগে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে আদায় করছি। ফলে রাজস্বের ওপরে কোনো চাপ পড়ছে না। অথচ সবাই মিলে বিশ্বকাপ দেখেছেন।”
২০২২ সালের সেই খরচের তুলনায় এবারে চার থেকে পাঁচ কোটি টাকা নামমাত্র ঘাটতি আছে তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী স্বপন বলেন, এখনো পর্যন্ত সাব লাইসেন্সিং যাদেরকে দিয়েছি, আমরা তাদের সঙ্গে একটা দরকষাকষি করে চলছি, যে এ টাকাটাও, মাত্র চার-পাঁচ কোটি টাকা, এটাও যদিও আপনারা আপনাদের বিজ্ঞাপনের আয় ভালো হয়, তাহলে এটাও আমরা তাদের ঘাড়ে দেওয়া চেষ্টা করব, রাজস্ব ভাগাভাগি।
“তাহলে আমাদের পুরাটাই সমান সমান পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াতে পারি। এ কথাটা দাবি করতে পারি, এখন পর্যন্ত নামমাত্র এ খরচটুকু করতে হচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম উপস্থিত ছিলেন।