Published : 13 Jan 2026, 02:40 PM
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গ্রুপ খুলে ‘প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে’ ৫ চীনা নগরিকসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি।
ডিবি বলছে, ‘কখনো চাকরি দেওয়ার নামে, কখনো ভালো মুনাফায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বা কখনো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সস্তায় সরবরাহের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে’ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত তারা।
গ্রেপ্তাররা হলেন- চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং, মো. জাকারিয়া, নিয়াজ মাসুম ও ওকামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়।
ঢাকার বসুন্ধরা, উত্তরায় অভিযান চালিয়ে এই আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ২৫১টি সিম, ৫১টি মোবাইল ফোন, ২১টি ভিওআইপি গেটওয়ে সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, “টেলিগ্রাম গ্রুপসহ অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে আমরা দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্রের সন্ধান পাই।”
এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসানকে এবং সোমবার উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টর থেকে ৫ চীনা নাগরিকসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নাসের রিকাবদারের ভাষ্য, “গ্রেপ্তাররা বিভিন্ন ধরণের প্রতারণায় জড়িত ছিল, যখন যেভাবে সম্ভব টার্গেট ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। ”

চীনা নাগরিকরা কবে এবং কী ভিসায় দেশে আসেন জানতে চাইলে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়গুলো আমরা যাচাই বাছাই করছি।”
আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা সিমগুলার মূলে যাব, কীভাবে কার মাধ্যমে তারা সেসব পেল যাচাই করে দেখব। আমরা কাজ করছি।”

গেল ৭ জানুয়ারি উত্তরা থেকে দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করার পর ডিবি বলেছিল, তারা কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে আনা মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ দিয়ে অবৈধভাবে আইফোন সংযোজন করে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করে আসছিল।
সে সময় তাদের কাছ থেকে ৩০৫টি মোবাইলসহ আইফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, পার্টস সংযোজনের মেশিনারিজ উদ্ধার করেছিল ডিবি।