‘শ্যালককে হত্যা’: স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকৃতি, স্ত্রীসহ কারাগারে সুজন
ফরহাদ নামের এ ব্যক্তিকে বুধবার রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ঢাকার শাহজাহানপুরে ‘সম্পত্তির বিরোধে’ শ্যালককে হত্যার মামলায় রিমান্ড শেষে আব্দুস সামাদ সুজনকে স্ত্রীসহ কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম রোববার তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান এ তথ্য দিয়েছেন।
হত্যার শিকার ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ ফকরুল হাসান ফরহাদ।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন- ফরহাদের বড় বোন নুর আফসানা নিপা ও ভগ্নিপতি আব্দুস সামাদ সুজন।
বৃহস্পতিবার তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল আদালত।
রিমান্ড শেষে রোববার সুজন ও নিপা দম্পতিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার এসআই মেহেদী হাসান।
এদের মধ্যে সুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড এবং নিপাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সুজনকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের খাস কামরায় নেওয়া হয়। কিন্তু তিনি স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানান। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
একই আদালত নিপাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
ফরহাদরা (৪৪) শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদের সন্তান। কয়েকবার স্ট্রোক করা ফরহাদ বেশিরভাগ সময় বাসায় থাকতেন। ১০ বছর আগে বিয়ে হলেও তার কোনো সন্তান ছিল না।
নিহতের আরেক বোন নার্গিস সুলতানা বলেছেন, তারা দুই বোন ও এক ভাই। শাহজাহানপুরের চারতলা বাড়ির জমিটি দুই বোনের নামে নিবন্ধিত। এ সম্পত্তি, গ্যাস ও পানি বিল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আফসানা ও তার স্বামী সুজনের সঙ্গে তাদের বিবাদ চলছিল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “তাদের উদ্দেশ্য ছিল—সবাইকে বঞ্চিত করে পুরো বাড়িটি তাদের দখলে নেওয়া।”
নার্গিসের ভাষ্য, ভবনের চারতলার ছাদের অংশ তার নামে থাকায় সেখানে ভাই ফরহাদকে থাকতে দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে একটি টিনশেড ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন ফরহাদ। তার স্ত্রী বিউটি পার্লারে কাজ করেন।
তিনি বলেন, “বুধবার রাতে সুজন চাপাতি নিয়ে ঘরে ঢুকে ফরহাদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। এমন নৃশংসভাবে আমার ভাইকে খুন হতে হবে—এটা আমি কখনো ভাবতে পারিনি।
“আমি এই হত্যার সঠিক বিচার চাই। আজ আমার ভাইকে হত্যা করেছে। এরপরে তো আমাদেরও সে হত্যা করতে পারে; আমাদের দেশে হত্যা করবে না—এটা গ্যারান্টি কে দিতে পারে?”
ফরহাদকে খুনের ঘটনায় স্ত্রী ছাদিয়া আক্তার শম্পা ৮ অক্টোবর মামলা করেন।
