১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

হত্যাচেষ্টা মামলায় ফের তিন দিনের রিমান্ডে আফজাল নাছের

চার মামলায় কয়েক দফায় ৪২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আবার তাকে রিমান্ডে পাঠানো হল।

হত্যাচেষ্টা মামলায় ফের তিন দিনের রিমান্ডে আফজাল নাছের
আদালতে আফজাল নাছের, ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 May 2026, 05:54 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:35 PM

জুলাই আন্দোলনের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাসকে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আফজাল নাছেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান সোমবার এ আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই অনুপ কুমার দাস জানান। 

একই মামলায় ৮ মে আদালতের মাধ্যমে আফজাল নাছেরকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। চার মামলায় কয়েক দফায় ৪২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আবার তাকে রিমান্ডে পাঠানো হল। 

২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন আফজাল নাছের। ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে ২৯ মার্চ গভীর রাতে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

পরদিন জুলাই আন্দোলনে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিহতের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় সেদিন তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

এরপর বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আরো চার দফায় ১১ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গত ১৭ ও ২০ এপ্রিল দেলোয়ার হত্যা মামলায় তাকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এরপর মাহমুদুল হত্যা মামলায় ২৩ এপ্রিল চার দিন, ২৭ এপ্রিল দুই দিন এবং ২৯ এপ্রিল তিন দিনের এবং ২ মে আরও তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।

৫ মে অনিককে হত্যাচেষ্টা মামলায় তার তিন দিন এবং ৮ মে আরও তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ হয়।

দুই দফায় ৬ দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার আফজাল নাছেরকে আদালতে হাজির করে আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই কেএম আবদুল হক। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে আন্দোলনকারীরা মহানগর দায়রা জজ কোর্টের সামনে আসলে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা অতর্কিত গুলি চালায়। এতে আহত হন অনিক। তাকে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ৩১ জুলাই কিছুটা সুস্থ হলে হাসপাতাল ছাড়েন অনিক। ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন তিনি।