Published : 30 Jun 2025, 12:49 PM
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আরো হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, ঢাকার আওয়ামী লীগ নেতা শাহে আলম মুরাদ ও ঢাকার সাবেক ওয়ার্ড ওয়ার্ড কাউন্সিলর রঞ্জন বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার সকালে শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মহানগর হাকিম পার্থ ভদ্র।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম জানান, এদিন আসামিদের আদালত হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে।
মমতাজ বেগম ও রঞ্জন বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ঢাকার কোতয়ালী থানার শাওন ওরফে শাওন মুফতি হত্যা মামলায়। ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থী শামীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে জাহাঙ্গীর আলম ও শাহে আলম মুরাদকে।
আর যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসা শিক্ষক মঈনুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে নোয়াখালীর সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানকে। আসামিরা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আগে থেকেই কারা হেফাজতে রয়েছেন।
শাওন মুফতি হত্যা মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৫ অগাস্ট রাতে আন্দোলনকারী শাওন মুফতি তাঁতীবাজার মোড়ের ‘ফুলকলি’ দোকানের সামনে বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। এরপর গভীররাতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় তার মা মাকসুদা বেগম গত ২৮ মে রাজধানীর কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অচেনা ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
শামীম হত্যা মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় মিছিলে অংশ নেন শিক্ষার্থী শামীম (১৩)। মিছিলটি কলাবাগান এলাকায় পৌঁছালে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অতর্কিত আক্রমণে আহত হন শামীম। পরদিন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ৩ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৮ জনের নামে মামলা করেন নিহতের মা জাহানারা বেগম।
মাদ্রাসাশিক্ষক মঈনুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই দুপুরে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া উড়াল সড়কে ছাত্র-জনতার মিছিল চলছিল। মিছিলে অংশ নেন মঈনুল। তখন স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিলে আক্রমণ করলে মঈনুল গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন রাতে তিনি মারা যান। নিহত মঈনুল ডেমরার আহসানুল হিকমা মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।
এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১৭৪ জনের বিরুদ্ধে ২০ সেপ্টেম্বর মামলা করেন মঈনুলের বাবা কামরুল ইসলাম।