কোকেন পাচার: পেরুর নাগরিকের যাবজ্জীবন, পাকিস্তানির ১০ বছর জেল

২০১১ সালে তেজগাঁয়ের একটি হোটেল থেকে পেরুর ওই নাগরিককে ৩ কেজি কোকেনসহ গ্রেপ্তার করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Feb 2024, 08:59 AM
Updated : 7 Feb 2024, 08:59 AM

ঢাকার কারওয়ান বাজারের এক হোটেল থেকে তের বছর আগে ৩ কেজি কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় পেরু ও পাকিস্তানের দুই নাগরিককে কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার জজ আদালত।

তাদের মধ্যে পেরুর গাজাসিটাল ভারাডো জুয়ান পাবলো রাফেলকে যাবজ্জীবন এবং পাকিস্তানের মোহাম্মদ মোস্তফা আশরাফের ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলাম বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে রাফেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আর অভিযোগে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন পাঁচজন। তারা হলেন বাংলাদেশের- মো. মোস্তফা, শামসুল হক, হালিমা খান সাদিয়া, সাবরিনা নাসরিন তানিয়া এবং মো. আশরাফ নাসিম।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন হাওলাদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানান।

রায় ঘোষণার আগে রাফেলকে কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। বিচারকের রায় পড়া শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে এই আসামিকে ফের কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পাকিস্তানের আশরাফ গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে বর্তমানে পলাতক আছেন।

আসামিদের মধ্যে খালাস পাওয়াদের মধ্যে তানিয়া ছাড়াও বাকিরাও পলাতক। এতদিন তানিয়া জামিনে থেকে শুনানিতে হাজির হয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালে ১১ জুন রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় একটি হোটেলের ৭০৭ নম্বর কক্ষে তল্লাশি চালান মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।  সে সময় পেরুর নাগরিক রাফেলের ব্যাগের মধ্যে থেকে তিন কেজি কোকেন পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত করে ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন অধিদপ্তরের পরিদর্শক ওবায়দুল করীম।

২০১৫ সালের ১৮ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

রাফেল ও আশরাফ দুজনেই বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেছিলেন। আশরাফ পরে জামিন পেয়ে পালিয়ে যান।

সে সময় রাফেল বলেছিলেন তিনি পেশায় একজন লরি চালক; আর আশরাফের বাংলাদেশে 'ক্রস ওশান' নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল।