সীমান্তে বেড়া ও হত্যা: ভারতীয় হাই কমিশনারকে তলব, ঢাকার প্রতিবাদ
সীমান্তে বেড়া নির্মাণের বিষয়ে প্রণয় ভার্মা বলেন, “এক্ষেত্রে আমাদের দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং বিজিবি যোগাযোগ করছে।”
কাঁটাতারের ‘অননুমোদিত’ বেড়া নির্মাণের চেষ্টা এবং সীমান্তে হত্যার ঘটনায় ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনারকে ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার বিকালে পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিনের তলবে মন্ত্রণালয়ে আসেন হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা।
পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের মধ্যে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
আর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রণয় ভার্মা বলেছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দুপক্ষের মধ্যে যেসব ‘বোঝাপড়াগুলো’ আছে, তা যেন বাস্তবায়ন হয় এবং অপরাধ দমনে সহযোগিতা যেন থাকে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগের বিষয়টি জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব।
“তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে অননুমোদিতভাবে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অভিন্ন সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব।
“পররাষ্ট্র সচিব আরও বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, এ ধরনের ঘটনার সমাধান হতে হবে গঠনমূলক আলোচনা, বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন চুক্তির ভিত্তিতে এবং সেই পদক্ষেপে সীমান্ত এলাকার শান্তি ও শান্তাবস্থা যেন বজায় থাকে।”
পররাষ্ট্র সচিবকে উদ্ধৃত করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকাজ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করছে।”
বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এবং বিএসএফের আসন্ন মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার বিষয়েও আশা প্রকাশ করেছেন জসীম উদ্দিন।
পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর বেরিয়ে প্রণয় ভার্মা বলেন, “অপরাধহীন সীমান্ত নিশ্চিত করা; চোরাচালান, অপরাধীদের চলাচল ও পাচারের চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবেলার জন্য আমাদের নিরাপত্তায় সীমান্তে বেড়া নির্মাণের বিষয়ে বোঝাপড়া আমাদের রয়েছে।
“এক্ষেত্রে আমাদের দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং বিজিবি যোগাযোগ করছে।”
তিনি বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করি, দুপক্ষের যে সিদ্ধান্তগুলো আছে, তার বাস্তবায়ন হবে এবং অপরাধ মোকাবেলায় সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে।”
এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সীমান্তের পাঁচ স্থানে ভারতের বিধিহির্ভূত বেড়া নির্মাণের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা ঠেকানো হয়েছে বলে জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাটের তিন বিঘা করিডোর, নওগাঁর পত্নীতলাসহ পাঁচ সীমান্তে শূন্যরেখার ১৫০ গজের মধ্যে ভারত সম্প্রতি কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করে জানিয়ে তিনি বলেছেন, “এ নিয়ে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে একটা আলোচনা হয়েছে। এবং আমাদের বিজিবি খুব শক্ত অবস্থান নেওয়ায় এই জায়গায় থেকে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে (ভারত)।”
বিধি বহির্ভূতভাবে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ চেষ্টার ঘটনায় ভারতের হাই কমিশনারকে ডেকে প্রতিবাদ জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলবেন বলে ওই সময় জানান তিনি। এর পরপরই ভারতের হাই কমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়।
সীমান্ত হত্যায় উদ্বেগ
কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পাশাপাশি সীমান্ত হত্যার ঘটনায় পররাষ্ট্র সচিবের উদ্বেগ প্রকাশের কথা তুলে ধরা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, সম্প্রতি সুনামগঞ্জে বিএসএফ কর্তৃক এক বাংলাদেশিকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে ‘সীমান্ত হত্যার ঘটনার এমন পুনরাবৃত্তিতে উদ্বেগ ও হতাশা’ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র সচিব।
“হত্যাকাণ্ডে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, সবগুলো সীমান্ত হত্যার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, প্রাণঘাতী নয় এমন কৌশল নেওয়া এবং হত্যাকাণ্ড বন্ধের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বহুবারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি স্বত্বেও এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকা গভীর উদ্বেগের।
