“আইন অনুযায়ী সৎ, নির্ভীক ও দক্ষ লোক নিয়োগ করা হবে; আইনে তাই বলা হয়েছে,” বলেন তিনি।
Published : 03 Nov 2024, 06:19 PM
আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে ‘সৎ, নির্ভীক ও দক্ষ’ লোক নিয়োগ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ।
ইসি গঠনে সার্চ কমিটি রোববার বিকালে সুপ্রিম কোর্টে বৈঠকে বসছে বলেও সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে জানিয়েছেন তিনি।
আব্দুর রশিদ বলেন, “আইন অনুযায়ী সৎ, নির্ভীক ও দক্ষ লোক নিয়োগ করা হবে। আইনে তাই বলা হয়েছে। আমি সার্চ কমিটির মেম্বার নই। আমরা কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেব।
“আজকে (সার্চ কমিটির) মিটিং হবে এবং মিটিংয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নেওয়া হবে। সার্চ কমিটি তাদের কর্মপদ্ধতি ঠিক করবেন। অন্যান্য কাজগুলো কীভাবে হবে, আজকে (রোববার) সেটি তারা নির্ধারণ করবেন।”
কবে নাগাদ নির্বাচন কমিশন গঠন হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আইন অনুযায়ী এই কমিটি ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ দেবে। এরপর রাষ্ট্রপতি কবে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন, সেটা তো আমরা বলতে পারব না।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ দিতে গত বৃহস্পতিবার সার্চ কমিটি গঠন করে সরকার। ছয় সদস্যের এই কমিটির আহ্বায়ক আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুজন বিশিষ্ট নাগরিকও সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিন্নাতুন নেছা তাহমিদা বেগম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার।
আর আইন অনুযায়ী পদাধিকারবলে কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম এবং পিএসসির চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম।
আইনে বেধে দেওয়া যোগ্যতা, অযোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সুনাম বিবেচনা করে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে ১০ জনের নাম জমা দেবে এই কমিটি।
সেই তালিকা থেকে একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং চারজনকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। তাদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।
এ আইনের অধীনে ২০২২ সালের নির্বাচন কমিশনই প্রথম নিয়োগ পেয়েছিল। সেই কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন সাবেক আমলা কাজী হাবিবুল আউয়াল। আর কমিশনার হিসেবে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবিব খান, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ রাশেদা সুলতানা, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এক মাসের মাথায় ৫ সেপ্টেম্বর বিদায় নেয় কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন, যাদের অধীনে এ বছরের প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হয়েছিল।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছে। সেই সংস্কার শেষে নতুন ইসির অধীনে হবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের তরফে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ন্যূনতম ঐক্যমত্যের’ উপর নির্ভর করছে নির্বাচনের ‘টাইমলাইন’।
সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্বাচনমুখী যাত্রা শুরু হয়েছে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।