Published : 16 Mar 2026, 05:12 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা ‘সুন্দরভাবে’ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছি আপনাদের সহযোগিতায়। আমি এখনও একজন ব্যক্তিও পাই নাই যে বলেছে, ‘আমি ইলেকশনে ভোট দিতে পারি নাই’। আমি অনেককে জিজ্ঞেস করেছি, এ কথা কেউ বলে নাই।”
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনে সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সিইসি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
গেল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে।
দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে। অন্যদিকে তাদের এক সময়কার মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসেছে।
আদালতের নির্দেশে দুটি আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে একটি আসনে নতুন তফসিল দেওয়া হবে।
তবে ‘অনিয়মের’ অভিযোগ এনে ইতোমধ্যে ৩৫ জন পরাজিত প্রার্থী হাই কোর্টে মামলা করেছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির ২১ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১২ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এলডিপির একজন করে রয়েছেন।
গেল ৮ মার্চ দুটি মামলার প্রাথমিক শুনানি করার পর বিএনপি প্রার্থীর আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, তাদের আবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিজয়ী ঘোষিত প্রার্থীকে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।
“আমরা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছি যে, একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, তিনি নিজে ব্যালটে সিল মারছেন এমন তথ্য এমন সাক্ষ্য আমরা আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছি।”
কোনো কোনো কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ব্যালট বাতিল করা হয়েছে, যা ‘অস্বাভাবিক’ বলে তিনি দাবি করেন।
সিইসি বলছেন, ভোটগ্রহণের দিন বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সাধারণ ভোটার, নারী ভোটার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের সঙ্গে আলাপকালে তারা কোনো অভিযোগ করেননি।
তবে নির্বাচন ভালো হলেও সাধারণত ভোট শেষ হওয়ার পর কিছু ‘রাজনৈতিক’ আপত্তি ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনে ব্যবহৃত অমোচনীয় কালির দাগ ভোটগ্রহণের এক মাসেরও বেশি সময় পরেও ভোটারের আঙ্গুলে থেকে যাওয়া নিয়েও হাস্যরস করেন নাসির উদ্দিন।
এক মাস পরেও অমোচনীয় কালির দাগ থেকে যাওয়ায় তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাস্যরস চলছে তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটারদের কেউ কেউ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারা নিয়েও মজার ছলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
নির্বাচনের পর তার এক সাবেক সহকর্মীর ফেইসবুক পোস্ট তুলে ধরে সিইসি বলেন, “তিনি পোস্ট দিয়েছেন, 'মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আপনি কি কালি লাগিয়েছেন? এই কালি তো উঠছে না। এখন আমার ভয় হচ্ছে, সামনের লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশন। এই কালি নিয়ে আমি ভোট দিতে গেলে ধরা পড়ে যাব৷ আমি লোকাল ইলেকশনে ভোট দিতে পারব কি-না।’”
দেশের অর্থনীতি ও জিডিপি গণনায় নারীদের গৃহস্থালি কাজের মূল্যায়ন করা হয় না তুলে ধরে তিনি বলেন, “নারীদের ঘরের কাজের অবদান যদি আর্থিক মূল্যে (মনিটাইজ) হিসাব করা হতো, তবে বাংলাদেশের জিডিপি বর্তমানের তুলনায় তিনগুণ বেশি হয়ে যেত।”
নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা নারী কর্মকর্তাদের কর্মক্ষমতার প্রশংসাও করেন তিনি। নারী প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি, বলেন সিইসি।
নারীদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত করার ক্ষেত্রে বড় সাফল্যের কথা তুলে ধরে নাসির উদ্দিন বলেন, “আগে নারী ও পুরুষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখের ব্যবধান ছিল। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের ফলে সেই ব্যবধান এখন ১০ লাখে নেমে এসেছে।
“আমি নিজে দেখেছি, রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে মহিলারা ভোটার রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এই দৃশ্য অভাবনীয়।”
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম, তাহমিদা আহমদ, আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
আরও পড়ূন: