Published : 05 May 2026, 09:31 PM
সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ টন চাল ও আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন মঙ্গলবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রাথমিকভাবে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুসারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ।
“ত্রাণমন্ত্রীসহ একটি দল আজ সেখানে গিয়েছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন এ সহায়তার আওতা আরও বাড়বে।”
এদিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, উত্তর পূর্বাঞ্চলের হাওরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৭৫০০ টাকা করে অনুদান দেবে সরকার।
গত সপ্তাহে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ গোটা সিলেট অঞ্চল এবং নেত্রকোণার হাওর এলাকা বন্যা কবলিত হয়; যা এখনো অব্যাহত আছে।
সুনামগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দের তথ্য দিয়ে মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে এক মাসের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সুনামগঞ্জে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন।
জেলা সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী বলেন, “হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দুর্দশা লাঘবে আগামী তিন মাস কৃষক পরিবারকে সহায়তা করা হবে। এরপরও এ কর্মসূচি কীভাবে চালিয়ে রাখা যায় সে ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।”
তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তালিকা করা ও সময়মত কৃষকের কাছে সাহায্য পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ জন্য তালিকা প্রণয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শ নিতে জেলা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
হাওরে বজ্রপাতে প্রাণহানির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা বজ্রপাতে আহত ও নিহতের পরিবারের সহায়তার বরাদ্দ দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন বজ্রপাতে গবাদিপশু মারা গেলেও সহায়তা দেওয়া হবে। হাওরে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে জরুরি ‘অ্যাসেসমেন্ট’ দরকার।
“আমরা চিন্তা করছি বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের মত হাওরেও ছোট করে ‘শেডঘর’ নির্মাণ করে দেব, যেখানে বজ্রনিরোধক টাওয়ার বসানো হবে। দুর্যোগের সময় সাইরেন বসানো হবে।”
হাওরে উন্নয়ন তথা স্লুইসগেট নির্মাণ, খাল খনন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এসবের নামে জনগণের টাকা অপচয় করা যাবে না। সঠিক স্থানে পরিকল্পিত বাঁধ, স্লুইসগেট নির্মাণ করতে হবে।”
কৃষকদের সহায়তা তালিকা যাতে দুর্নীতিমুক্ত হয় সে জন্য নির্দেশনা দেন তিনি।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, “কৃষকের ফসল রক্ষায় সমন্বিত হাওর ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। পরিকল্পিতভাবে হাওর খনন, স্লুইসগেট নির্মাণ, পানিতে ধানকাটার উপযোগী ‘হারভেস্টার’ দেওয়া হবে কৃষকদের। কৃষকদের ধানের চারা, সার বিতরণ করা হবে এবং কৃষি ঋণপ্রদান করা হবে যাতে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।”
মতবিনিময় সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাস মেয়াদি মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ সময় কৃষমিন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামাম কামরুল, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আপ্তাবুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল, বিএনপি নেতা আকবর আলী।
আরও পড়ুন:
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ৭৫০০ টাকা করে অনুদান পাবেন: উপদেষ্টা