Published : 27 Apr 2026, 10:31 PM
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
সোমবার এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ রুলসহ এই নির্দেশনা দেয়।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২১ এপ্রিল বিকাল ৪টা এবং যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ ছিল ২২ ও ২৩ এপ্রিল।
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী এবার বিএনপি জোট ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন, আর স্বতন্ত্র জোটের একজনকে মনোনীত করে। তারা সবাই ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেন।
জামায়াত জোটের ১৩ জনের মধ্যে এনসিপির প্রার্থী ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। ২৩ এপ্রিল বাছাইয়ে বাকি সবার মনোনয়নপত্র গৃহীত হলেও মনিরা শারমিনের মনোয়নপত্র বাতিল করা হয়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরগ্রহণের পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হবেন।
মনিরা শারমিন ২০২৩ সালে নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার (জেনারেল) পদে যোগ দেন এবং গত ডিসেম্বর চাকরি ছাড়েন। সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
তার মনোনয়নপত্র বাতিল হবে বুঝতে পেরে এনসিপির পক্ষ থেকে ২১ এপ্রিল নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতিকে মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়। সেদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমার সুযোগ ছিল।
কিন্তু জ্যোতির মনোনয়নপত্র জমা পড়ে নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর। সে কারণে তা আর আমলে নেননি রিটার্নিং অফিসার।
পরে এর বৈধতা নিয়ে রোববার হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি। অন্যদিকে মনিরা শারমিন প্রার্থিতা বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।
সোমবার সকালে মনিরা শারমিনের আপিল নাকচ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
অন্যদিকে হাই কোর্ট নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়।
এ দিন জ্যোতির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন, মো. মনিরুজ্জামান ও জহিরুল ইসলাম মুসা।