Published : 17 Oct 2022, 06:17 PM
আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুকসহ দেওয়াসহ ১০ দফা দাবি মেনে না নেওয়া হলে কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্যাংকলরি শ্রমিকরা।
সোমবার জ্বালানি তেল বহনকারি যানবাহনের শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যাংকলরি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি
শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, তা না হলে জীবন-জীবিকার তাগিদে পেশার অস্তিত্ব রক্ষার্থে বাধ্য হয়ে আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে সারাদেশে ট্যাংকলরি শ্রমিকরা অবিরাম কর্মবিরতি পালন করবে।”
ট্যাংকলরি শ্রমিকদের এই নেতা বলেন, “দেশের জ্বালানি তেল পরিবহনে শ্রমিকরা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ‘রাষ্ট্রীয় সেবক’।
“অনেক সংগঠনের শ্রমিকদের সহজ শর্তে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, শ্রেণি পরিবর্তনের সুবিধা, সহজভাবে নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের সাথে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের জন্য আলাদা কাউন্টারের মাধ্যমে সহজে লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।”
এসময় শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, ঝুঁকিভাতা প্রদান এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ট্যাংকলরির টার্মিনাল নির্মাণ ও সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
এ খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য ঝুঁকি ভাতা প্রদান করা হয় অথচ আমরা বিস্ফোরকবাহী গাড়ির শ্রমিকদের ঝুঁকিভাতা ৫ লাখ টাকা দাবি করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে তা আলোচনা হলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে ট্যাংকলরি টার্মিনাল নির্মাণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তেলের ডিপোর সঙ্গে লরির টার্মিনাল নির্মাণ এবং পুরাতন টার্মিনালগুলো সংস্কারের দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
‘অসাধু পুলিশ সদস্যরা’ রাস্তায় ট্যাংকলরি থামিয়ে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করে শ্রমিক নেতা রেজাউল তা বন্ধের দাবি জানান।
তার ভাষ্য, “থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশসহ কতিপয় অসাধু পুলিশ দ্বারা ট্যাংকলরির হয়রানি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।”
সংবাদ সম্মেলনে ট্যাংকলরি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহজাহান ভূঁইয়া, জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি আব্দুল মতিন মুন্সী, আইন বিষয়ক সম্পাদক রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
১০ দফা দাবি
>> ট্যাংকলরি শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক প্রদান করাসহ শ্রম আইন ও বিধি অনুযায়ী শ্রমিকের যাবতীয় রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।
>> ট্যাংকলরি শিল্পের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি কাঠামো নির্ধারণের জন্য ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করতে হবে।
>> ট্যাংকলরি শ্রমিকদের জন্য পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত ৫ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
>> কেন্দ্রীয় ট্যাংকলরি টার্মিনালসহ দেশজুড়ে তেলের সব ডিপোর সঙ্গে অত্যাবশ্যকীয় সুবিধাসহ ট্যাংকলরি টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে।
>> ট্যাংকলরি চালকদের সহজ শর্তে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। সড়কে যত্রতত্র চলন্ত ট্যাংকলরি থামিয়ে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
>> ট্যাংকলরি শ্রমিকদের জন্য শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে পৃথকভাবে সাহায্য-সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে।
>> ট্যাংকলরি শিল্পে অপরাপর সেক্টরের শ্রমিকদের অনুপ্রবেশ ঘটানোর মালিকদের অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
>> ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন নামের সংগঠন থেকে ‘ট্যাংকলরি’ শব্দটি পরিহার করতে হবে।
>> শ্রম আইন- ২০০৬ এর ১৭৯(৫) ধারা সংশোধন করে শুধুমাত্র ‘দাহ্য পদার্থবাহী ট্যাংকলরির ক্ষেত্রে’ একই প্রতিষ্ঠানে একটির বেশি ইউনিয়ন গঠন করা যাবে না মর্মে সংশোধন করতে হবে।