Published : 15 Jul 2025, 03:20 PM
বাংলা একাডেমি সংস্কারে গঠিত কমিটি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন কবি ব্রাত্য রাইসু।
মঙ্গলবার দুপুরে ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেছেন, “আমি মনে করছি, যেই কমিটির সদস্য সংগ্রহের ব্যাপারে দায়সারা ভাব আছে, সেই কমিটিতে গেলে আমার সম্মানহানি ঘটতে পারে এবং আমার কথার মূল্যায়ন ও বিবেচনা আদৌ নাও ঘটতে পারে। তাতে কমিটিতে থাকাটা নিতান্ত অহেতুক হবে।
“তাই আমি সইরা আসছি। তবে আমি এই কমিটির সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনা করি। আশা করি, কমিটির মাধ্যমে সত্যিই বাংলা একাডেমির একটি তাৎপর্যপূর্ণ রূপান্তর সম্ভব হবে।”
যোগাযোগ করা হলে ব্রাত্য রাইসু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ফেইসবুকে যা লিখেছেন, সেটিই তার বক্তব্য।
লেখক, গবেষক ও অনুবাদক ফয়জুল লতিফ চৌধুরীকে সভাপতি এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমকে সদস্য সচিব করে বাংলা একাডেমির কার্যক্রমে গুণগত পরিবর্তন ও সংস্কারে কমিটি গঠন করা হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ৭ জুলাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৯ সদস্যের এ কমিটি গঠন করার তথ্য দেয়।
এর আগে মে মাসে বাংলা একাডেমির সংস্কার বিষয়ে জানাতে দুই দফা সংবাদ সম্মেলন ডেকে স্থগিত করা হয়েছিল।

ব্রাত্য রাইসু ফেইসবুকে লিখেছেন, “বাংলা একাডেমি সংস্কারে কমিটি গঠন করা হইছে এবং ৭ জুলাই তারিখে এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হইছে পত্রিকাগুলিতে। কমিটিতে কারা আছেন তার তালিকায় আমার নামও আছে।
“এই নাম ভুক্তির ঘটনায় বেশ কয়েকজন আমারে ফোন কইরা অভিনন্দন জানানোর কারণে একটা তথ্য পরিষ্কার করার দরকার ছিল। কিন্তু সেই সময় এই নিয়া নেগেটিভ আলাপ তৈরি হউক, তা আমি চাই নাই।”
ব্রাত্য রাইসুর অভিযোগ, চূড়ান্ত সম্মতি ছাড়াই কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তার কথায়, “আমি সংস্কার বিষয়ক কমিটি হবে জাইনা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার প্রস্তাবে প্রাথমিক ভাবে সাড়া দিছিলাম। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মহোদয় এই ব্যাপারে ফোন করছিলেন। আমি জানাইছিলাম, আমি প্রাথমিক ভাবে রাজি আছি। তবে কমিটি ফাইনাল করার আগে যাতে যোগাযোগ কইরা আমার দিককার ফাইনাল সম্মতি নেন, সে ব্যাপারে সম্মানিত মহাপরিচালক মহোদয়কে আমি অনুরোধ করছিলাম।
“কিন্তু তিনি আর যোগাযোগ করেন নাই। ফাইনাল কমিটি গঠন ও সেই কমিটির নাম ঘোষণার আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করার কারণে আমি নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা অবহিত করি।”
এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই কমিটি মন্ত্রণালয় থেকে হয়েছে, বাংলা একাডেমি এই কমিটি করেনি। ফলে এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করব না।”
দুপুরে যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন, আর সংস্কৃতি সচিব মফিদুর রহমান জরুরি সভায় ব্যস্ত আছেন। ফলে তাদের মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহা. খালিদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতনদের অবগত করব।”
গত ৭ জুলাই মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলা একাডেমির কার্যক্রমে সময়োপযোগী গুণগত পরিবর্তন ও সংস্কারের লক্ষ্যে’ এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সব কার্যক্রম শেষ করে সুপারিশ দিতে বলা হয়।
কমিটি বাংলা একাডেমির আইন, প্রবিধানমালা, কাঠামো, কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এর সার্বিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করবেন। কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এ কমিটিকে সব ধরনের সাচিবিক সহায়তা দেবে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কবি ও প্রাবন্ধিক আবদুল হাই শিকদার, লেখক ও গবেষক সলিমুল্লাহ খান, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের অধ্যাপক সুমন রহমান, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, কবি মোহাম্মদ রোমেল, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ।
এছাড়া আছেন- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুল ইসলাম শিবলী, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম, অধ্যাপক আ আল মামুন, কবি সাখাওয়াত টিপু, লেখক রিফাত হাসান, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক এহসান মাহমুদ, কবি কাজী জেসিন, কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল, লেখক ও অনুবাদক জাভেদ হুসেন, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) গবেষণা বিশেষজ্ঞ সহুল আহমদ মুন্না।
ভাষা আন্দোলনের পর বাংলা ভাষার অস্তিত্ব রক্ষা ও বিকাশে বাংলা একাডেমির মত গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়ে ওঠে। যুক্তফ্রন্ট সরকার পাকিস্তানের ক্ষমতায় এলে ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠা পায় বাংলা একাডেমি। প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর এটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পায়।
১৯৫৭ সালে ৩ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে ‘দি বেঙ্গলি একাডেমী অ্যাক্ট ১৯৫৭’ পাস করে বাংলা একাডেমিকে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া হয়।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ‘বাংলা একাডেমি আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। আইনে সরকারের ক্ষমতার পরিসীমাও বলা রয়েছে।
ফয়জুল লতিফ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলা একাডেমি সংস্কার কমিটি
দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সাংবাদিক ৫ জন, স্থগিত হল ফারুকীর সংবাদ সম্মেলন
স্বায়ত্তশাসিত কি অধীনস্থ? সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের 'দাদাগিরিতে' ক্ষোভ
স্বায়ত্তশাসন নামেই, 'মন্ত্রণালয়ের দাদাগিরি' কি চলবেই?
একুশে বইমেলার আয়োজক কে? দ্বন্দ্বে সংস্কৃতি সচিব ও বাংলা একাডেমি