Published : 05 Apr 2026, 02:41 PM
র্যাবের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই মন্তব্য করে বাহিনীর নতুন মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, এর পুনর্গঠন বা সংস্কারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সরকারের।
এছাড়া আরও পেশাদারত্বের সঙ্গে ও মানবিকভাবে এই বাহিনীকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।
দায়িত্ব নেওয়ার পর রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কার্যালয়ে প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ। সেখানে তিনি র্যাব টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মহাপরিচালক পলাশ বলেন, "র্যাপের বিলুপ্তি বা র্যাবের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তের দায়ভার র্যাবের ওপর বর্তায় না। সরকার এ বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন। আমাদের কাজ হল দায়িত্ব পালন করে যাওয়া। সরকারের সুযোগ সুবিধা নিচ্ছি এ কারণে র্যাবকে কাজের মাধ্যমে ভালভাবে উপস্থাপন করা।
"আমি মনে করি এ ধরনের বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে। এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। র্যাব পুলিশেরই একটি সংগঠন। এখানে আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে না। র্যাবের থাকার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো দ্বিমত নেই। বাইরে থেকে যা দেখেছি, র্যাবের ভেতরে আসার পরে আরো স্ট্রাকচার- ইম্প্রেশন আরো ভালো মনে হয়েছে। আমি মনে করি আরো পেশাদার, মানবিক দিক দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব র্যাবকে।"
রাজনৈতিকভাবে র্যাবকে ব্যবহার করা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, "বিগত দেড় বছরে আমাদের কার্যকলাপ যদি পর্যালোচনা করে দেখেন তাহলে দেখবেন র্যাবের অপকর্ম বা অপকীর্তির ইতিহাস বেশি নেই। তারমানে এটা প্রমাণিত হয় র্যাবকে যদি সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায় তাহলে র্যাব সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে। সরকার চেষ্টা করছে র্যাবকে ভালকাজে সম্পৃক্ত করার জন্য। আমি আশাবাদী র্যাব সঠিকভাবে পরিচালিত হবে এ ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা পেয়েছি।"
আরেকটি প্রশ্নের জবাবে র্যাবকে মানবিক অবস্থানে দেখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মহাপরিচালক পলাশ।
তিনি বলেন, “র্যাবের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নিয়মিত তদন্ত করে দেখা হয় অভিযুক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হয় না।”
দেশে জঙ্গিবাদ আছে কী না, জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ এ বিষয়গুলো আছে কী নেই একবারে আমি এর জবাব দিতে চাইবে না। তবে আমরা কাজ করছি যে বাদই থাক না কেন, আছে কি নেই সে দিকে না গিয়ে যদি কিছু থেকে থাকে এগুলো নিয়ে কাজ করছি কাজ চলমান আছে। যে বাদই থাকুক সব বাদকে নির্মূল করতে পারবো।"
কিশোর গ্যাং নিয়ে র্যাব মহাপরিচালকের ভাষ্য, তারা জেনেছেন এর দৌরাত্ম প্রকট আকার ধারণ করেছে।
‘এ নিয়ে আমরা কাজ করছি’, বলেন তিনি।
কিশোর গ্যাং কারা পরিচালনা করছে তাদের নাম প্রকাশ করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
দেশের বাইরে র্যাবের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, "এই বিষয়গুলি যদি বিশ্লেষণ করে দেখা হয়, র্যাব গঠিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন কোন সময় কি কারণে এগুলো ঘটেছে। তাহলেই বোঝা যাবে কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা ডিভিয়েশন হয়ত ছিল।
“কিছুটা পদস্খলন ছিল বলে এ রকম একটা বিষয় থাকতে পারে। এই জায়গায় যদি ঠিকঠাক করতে পারি তাহলে নিষেধাজ্ঞার যে বিষয়গুলো আছে সেগুলো আর থাকবে না। কাজ দিয়ে প্রমাণ করতে হবে।"
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ র্যাবে এ কে এম শহিদুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।