Published : 29 Aug 2025, 08:50 PM
উপসচিব পদে সরকার যোগে ২৬৮ জনকে কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার পর তথ্য (সাধারণ) ক্যাডারের কর্মকর্তারা ‘হতাশার’ কথা বলেছেন।
তাদের এ হতাশার কারণ তুলে ধরে একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, এ ক্যাডারের ১৩ জন আবেদন করলেও পদোন্নতি হয়েছে দুইজনের।
তারা বলছেন, আবেদনকারীদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ চারজনকে ‘পাশ কাটিয়ে পিছিয়ে থাকা’ ২৭তম ব্যাচের ওই দুইজনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে বিসিএস প্রশাসনের ৩০তম ব্যাচসহ বিভিন্ন ক্যাডারের সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার ২৬৮ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ২৬২ জন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত এবং ছয়জন দেশের বাইরে বিভিন্ন দূতাবাসে প্রথম সচিব পদে কর্মরত আছেন।
তথ্য ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, বিসিএস ২৪, ২৭ ও ২৮তম ব্যাচের তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা সেভাবে এখনও পদোন্নতি পাননি।
তাই এবার বেশি সংখ্যক কর্মকর্তার পদোন্নতি আশা করেছিলেন এ ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
তাদের আশা ছিল, অন্তত ২৮ ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রশাসনের ৩০ ব্যাচের সঙ্গে শেষ হতে পারে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, উপসচিব পদে পদোন্নতি বিবেচনার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যে ১৩ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছিল, তার মধ্যে জ্যেষ্ঠতার নম্বর অনুযায়ী ২৪তম ও ২৭তম বিসিএসের প্রথম চারজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।
তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকায় দেখা গেছে, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রথম ছিলেন ২৪তম বিসিএসের তথ্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার কামরুজ্জামান ভুঁঞা (নম্বর ৩০), দ্বিতীয় ছিলেন মুহা: শিপলু জামান (নম্বর ৩৪), তৃতীয় ছিলেন হাছিনা আক্তার (নম্বর ৩৯) এবং চতুর্থ ছিলেন ২৭তম বিসিএসের মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (নম্বর ৫৭)।
পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে দেখা গেছে, এই চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পদোন্নতি না হলেও, ২৭তম বিসিএসের ৫৯ ও ৬১ জ্যেষ্ঠতা নম্বরের দুইজন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন।
তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, এবার আবেদনকৃত ২৪, ২৭ ও ২৮তম ব্যাচের ১৩ জনের মধ্যে অন্তত ৭ থেকে ৮ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি তারা আশা করেছিলেন, কারণ প্রশাসনের ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তারা এবার উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
তারা মনে করেন, পদোন্নতি বঞ্চিতরা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
প্রশাসনের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, প্রেষণ এবং ওএসডি সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ (এপিডি) থেকে আসে।
এপিডির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই পদোন্নতির বিষয়ে সাত সদস্যের কমিটি রয়েছে, তারাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তারা তাদের বিবেচনায় পদোন্নতি দিয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের তালিকা সব সময় একইভাবে বিবেচিত হয়, সেরকম নয়।"
২৪তম বিসিএসের একই সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রশাসন ক্যাডারের তাদের ব্যাচমেটদের গত মার্চ মাসে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের ২৯তম ব্যাচ পর্যন্ত আগেই উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
পররাষ্ট্র ও বিসিএস (প্রশাসন) বাদে অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের যারা পদোন্নতি উপসচিব হয়েছেন তাদের মধ্যে কৃষি ক্যাডারের সাতজন, আনসার ক্যাডারের চারজন, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারের চারজন, সমবায় ক্যাডারের একজন, শুল্ক ও আবগারী ক্যাডারের চারজন, সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১২ জন, মৎস্য ক্যাডারের তিনজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
এছাড়া খাদ্য ক্যাডারের চারজন, তথ্য ক্যাডারের চারজনের মধ্যে সাধারণ ক্যাডারের দুইজনের সঙ্গে রয়েছেন বেতার বার্তা ও বেতার প্রকৌশলের একজন করে।
বাকিদের মধ্যে পশুসম্পদ ক্যাডারের দুইজন, পুলিশ ক্যাডারের একজন, ডাক ক্যাডারের দুইজন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ক্যাডারের দুইজন, গণপূর্ত ক্যাডারের তিনজন, রেলওয়ে ক্যাডারের তিনজন, সড়ক ও জনপদ ক্যাডারের তিনজন, পরিসংখ্যান ক্যাডারের চারজন, কর ক্যাডারের দুইজন, টেলিযোগাযোগ ক্যাডারের চারজন এবং ট্রেড ক্যাডারের একজন রয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতির আদেশে থাকা কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর বা কর্মস্থল এরইমধ্যে বদল হয়ে থাকলে তিনি বর্তমানে কর্মরত দপ্তরের নাম বা ঠিকানা দিয়ে যোগ দেওয়ার চিঠি দেবেন।
এতে বলা হয়, এ আদেশের পর পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ‘বিরূপ বা ভিন্নরূপ’ তথ্য পাওয়া গেলে ওই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এ আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন বা বাতিল করা হতে পারে।