Published : 17 Apr 2026, 04:51 PM
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতি ‘কোনো বৈষম্য হচ্ছে না’ বলে দাবি করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাদশাহ ফয়সল ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, “বৃত্তি পরীক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি আনুপাতিক হার হিসেবে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য হচ্ছে না। সরকারি স্কুলের আট জনের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। আর বেসরকারি স্কুলের সুযোগ পাচ্ছে পাঁচজনে একজন।
“বৃত্তির আনুপাতিক হার হিসেবে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও সমান সুযোগ পাচ্ছে।”
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৬ লাখ ৪০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি স্কুলের সাড়ে ৫ লাখ এবং বেসরকারি স্কুলের ৯০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।
তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া অন্যান্য ৬১ জেলায় গত ১৫ এপ্রিল বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় এ পরীক্ষা শুরু হয়েছে শুক্রবার।
প্রাথমিকের বৃত্তির জন্য এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে। মোট মেধাবৃত্তি বা ট্যালেন্টপুলের সংখ্যা ৩৩ হাজার, এর মধ্যে বেসরকারি প্রাথমিকের জন্য সাড়ে ৫ হাজার আর সাধারণ বৃত্তির সংখ্যা সাড়ে ৪৯ হাজার।
বৃত্তি পরীক্ষা কার্যক্রম ‘সন্তোষজনকভাবে’ পরিচালিত হচ্ছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “দেশজুড়ে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুকূল পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারছে।
“এ লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিটি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।"
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন পরীক্ষা কার্যক্রমের দিকে ‘সার্বক্ষণিক’ খেয়াল রাখছেন জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, “আমাদের সচিব সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। প্রাথমিক অধিদপ্তরের ডিজি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেও ইতিবাচক চিত্র পাওয়া গেছে।”
বৃত্তি পরীক্ষাকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ‘পাঠ্যক্রমে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম’ হিসেবে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “পাঠ্যক্রমের প্রতি উৎসাহিত করার কোনো প্রসেস আমরা বাদ দিতে চাই না, মাইনাস করতে চাই না। তার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে যে পরীক্ষাটা হওয়ার কথা ছিল, তারা কোনো কারণে দিতে পারেনি। সেটা আমরা চালু রেখেছি, আমরা পরীক্ষা দিয়েছি।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সব অংশীজনের সঙ্গে আলাপ করে সরকার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা আপডেট করবে। যার মধ্যে বৃত্তির অর্থের পরিমাণ এবং কত সংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে, তা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। সাংবাদিকদের মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সর্বোচ্চ সমতা নিশ্চিত করে আমরা নীতিমালা প্রণয়ন করব।”
পরে প্রতিমন্ত্রী বেঙ্গলি মিডিয়াম হাই স্কুল কেন্দ্র ও মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।