Published : 15 Mar 2026, 01:34 PM
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন ভাতা ও উপকারভোগীদের সমন্বিতভাবে ‘একই ছাতার আওতায়’ আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন অনুপস্থিত থাকায় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে ভাতা পাওয়ার জন্য টাকা দাবি করার ঘটনাও সামনে আসে। এটা অবশ্যই দুর্নীতি। আমরা সরবরাহ ব্যবস্থাকে যতটা সম্ভব স্বচ্ছ করার চেষ্টা করছি।”
প্রতিমন্ত্রী শারমীন বলেন, উপকারভোগীদের সমন্বিতভাবে চিহ্নিত করতে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
“আমরা ক্রমান্বয়ে চেষ্টা করব একটি সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে সব সুবিধাভোগীকে একটি পরিবারের আওতায় নিয়ে আসতে।”
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে একদিকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে; অন্যদিকে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যাতে সহায়তা পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আগের সময়ে তালিকা তৈরিতে নানা অনিয়ম হয়েছিল। নীতিমালা সংশোধন করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল।
“আমরা বিদ্যমান তালিকা যাচাই করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করছি এবং সে লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে।”
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বচ্ছতা বজায় রেখে ভাতা বিতরণ ব্যবস্থাকে সংস্কার করতে চায়।
তিনি বলেন, “আমরা সব ধরনের স্বজনপ্রীতি ও বণ্টন পর্যায়ের অনিয়ম থেকে বের হয়ে স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজ করতে চাই। অতীতের নানা তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বের হয়ে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ
সংসদে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে, তবে তা দ্রুত সমাধান করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, “ক্বারীয়ানা পাসধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।”
এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, “আগের সরকার ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করেছিল, যা আমার কাছে যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ভর্তি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।”
মন্ত্রী মিলন জানান, ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোকে দেশের প্রচলিত নিয়মের আওতায় এনে যুগোপযোগী করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
এছাড়া এবতেদায়ী, কওমি এবং সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং সরকার সেগুলোর মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য নতুন করে আবেদন আহ্বান করা হবে এবং পুরোনো আবেদনগুলোও পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে।