Published : 06 Oct 2025, 09:28 PM
আদিবাসী স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ‘ধর্ষণের’ অভিযোগে খাগড়াছড়ির গুইমারায় আন্দোলন, সহিংস পরিস্থিতি ও ১৪৪ ধারার মধ্যে গুলিতে নিহতদের স্মরণে ঢাকার শাহবাগে প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্মের এ আয়োজন থেকে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন, ঘটনা তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলে ধরা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন বলেন, “খাগড়াছড়িতে একজন মারমা কিশোরীকে ‘দলবদ্ধ ধর্ষণের’ ঘটনার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণে তিনজন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আদিবাসী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রধান উপদেষ্টার দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছি।
“পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার স্থায়ী সমাধান পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্যেই নিহিত। এজন্য সকল রাজনৈতিক পক্ষ ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় সংলাপ জরুরি।”
দাবিদাওয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নিরপেক্ষ তদন্তে নাগরিক প্রতিনিধি যুক্ত করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন, নিহত পরিবারের জন্য অন্তত ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, পাহাড়ে ‘সামরিকীকরণ নীতি’ পরিহার করে সিভিল প্রশাসনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান, এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।”
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহমুদুল সুমন বলেন, “নাগরিক হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের ‘ধর্ষণের’ মত একটি নিকৃষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার অধিকার আছে। আর এ ধরনের আন্দোলনকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী তকমা দিয়ে’ দেখার কোনো সুযোগ নেই। এ আয়োজনে পাহাড়ি মানুষের অধিকারের জন্য যে দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে, তার সঙ্গে আমি সংহতি জানাচ্ছি।”
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) স্থায়ী সদস্য মুশতাক হোসেন বলেন, “গুইমারায় যারা নিহত হয়েছেন তাদেরকে আমরা আর ফিরে পাব না। কিন্তু পাহাড়ের আদিবাসীদের যে ন্যায্যতার লড়াই, সে লড়াইয়ে তারা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা অনতিবিলম্বে এ ঘটনার তদন্ত দাবি করি এবং পাহাড়ে সমস্যা সমাধানে সরকারের আশু পদক্ষেপ দাবি করছি।”
স্মরণসভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “রাষ্ট্র আদিবাসীদের সঙ্গে অস্বীকারের রাজনীতিই করে যাচ্ছে। সেই ১৯৭১ সালের পর থেকে আদিবাসীদের উপর ‘গণহত্যা’ সংঘটিত হচ্ছে। এসবের কোনো বিচার নেই। আমরা পাহাড়ের আদিবাসীদের সংকট নিরসনে অনতিবিলম্বে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”
মারমা স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সদর থানায় মামলা হয়। পরের দিন ভোরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় খাগড়াছড়িতে, যা পরে সহিংস হয়ে ওঠে।
১৪৪ ধারা জারির পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনা ও বিজিবি মোতায়েনের পরও পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে। রোববার ১৪৪ ধারার মধ্যেই গুইমারায় ব্যাপক সহিংসতা হয়। সেখানে গুলিতে নিহত হয় তিনজন।
পরে সেই মারমা স্কুলছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে ধর্ষণের কোনো আলমত মেলেনি।