Published : 17 Jul 2024, 10:05 PM
আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর মত সহিংস কর্মকাণ্ড পরিহার করতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
বুধবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাগুলো পুলিশ ‘যথেষ্ট ধৈর্য, সহনশীলতা এবং পেশাদারির’ সঙ্গে মোকাবেলা করছে।
"যে কোনো দাবি আদায়ের নামে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, সম্পদ বিনষ্ট করা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না।"
কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকালে দেশের সব ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল আন্দোলনকারীরা। তবে বেলা ১১টা থেকেই ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু করে।
পরে বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় সংগঠনের নেতাকর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। এসব ঘটনায় চট্টগ্রামে তিনজন, ঢাকায় দুজন এবং রংপুরে একজনের মৃত্যু হয়।
বুধবারও বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। সরকার সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সাথে সন্ত্রাসীদের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং সন্ত্রাসীরা এদের মধ্যে ঢুকে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।”
তিনি দেশজুড়ে সংঘাতের বিচারবিভাগীয় তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন এবং সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত ধৈয্য ধরার আহ্বান জানিয়ে আন্দোলনকারীদের বলেছেন, সেখানে ছাত্রসমাজ ন্যায়বিচার পাবে বলেই তার বিশ্বাস।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানে সাড়া না দিয়ে বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘শাটডাউনের’ ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
এই কর্মসূচিতে হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে এবং অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।
ওই অবস্থান থেকে তাদের সরে আসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ‘গুজবে কান না দিতে’ সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে পুলিশ সদরদপ্তরের বিবৃতিতে।
সেখানে বলা হয়, “চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”