Published : 27 May 2026, 03:10 PM
এবারের ঈদযাত্রায় নানা ‘চ্যালেঞ্জ’ থাকলেও ‘মোটামুটি ভালোভাবেই’ উৎরে যেতে পেরেছেন বলে মনে করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেছেন, "এখন পর্যন্ত সবকিছু মিলে একটা ভালো যাত্রা আমরা ম্যানেজ করতে সক্ষম হলাম, এটুকুই বলব।"
কোরবানির ঈদের আগের দিন বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, "সবকিছু মিলিয়ে এই যাত্রাটা আমার কাছে মনে হয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জের। আপনারা জানেন যে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা থেকে দুই তিন দিনের মধ্যে গন্তব্যে যাবে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাবে।
"তো যাত্রী অনেক, মানুষ ও পশু মিলিয়ে; আমাদের পরিবহন সেক্টরের যে সামর্থ্য আছে, সেটা শতভাগ দিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি। মোটামুটিভাবে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি এবং আমরা মনে হয় যে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।”
ঈদযাত্রা সহনীয় করতে এবার টানা সাতদিনের ছুটির ব্যবস্থা করেছে সরকার। কিন্তু বৃষ্টিবিঘ্নিত ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে এবং গাজীপুরে থেমে থেমে যানজট দেখা গেছে বুধবারও। নিয়ম ভেঙে পিকআপ বা ট্রাকে চড়ে উত্তরের যাত্রী হওয়ার পুরনো চিত্র এবারও দেখা গেছে।
এমনই এক যাত্রায় রোববার রাতে রডবোঝাই ট্রাকে চড়ে বাড়ির পথ ধরে টাঙ্গাইলে দুর্ঘটনায় পড়ে নিহত হয়েছেন ১৫ জন। নিহতদের ১০ জনই নওগাঁর এবং বাকিরা উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের চার জেলার।
ঈদযাত্রায় বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নিয়েও এসময় কথা বলেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, "সবাই চায় ঈদকে পুঁজি করে... এখন যাত্রীর চাপ আছে, সেখানে কিছু বেশি নেওয়া যায় কিনা। আড়ালে আবডালে কিছু এরকম প্রবণতা আছে।
“কিন্তু এই প্রবণতা তো আপনি মানুষের মননের। যে দুর্বৃত্তায়ন, সেটাকে তো আপনি রাতারাতি চেইঞ্জ করতে পারবেন না।”
প্রকাশ্যে বাড়তি ভাড়া আদায় যদি বন্ধ করা যায়, কাউন্টার ও বাসস্ট্যান্ডে যদি নির্ধারিত ভাড়া নিতে বাধ্য করা যায়, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যদি এই ব্যবস্থায় অভ্যস্ত করা যায়, তাহলে ওই প্রবণতা ‘আস্তে আস্তে দূর হয়ে যাবে’ বলে মনে করেন শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, "আমরা প্রশ্রয় দিচ্ছি না। যেখানে অভিযোগ শুনছি ব্যবস্থা নিচ্ছি, জরিমানা করছি। তো এটা হল একটা মেসেজ।”
তার ভাষায়, ঈদে স্বজনরা অপেক্ষায় থাকেন, মানুষকে বাড়ি যেতেই হয়। এই ‘দুর্বলতাকে’ ব্যবহার করে, পরিবহন সেক্টরকে ‘কুক্ষিগত’ করে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হত।
“এটাকে পুঁজি করতে আগে যেভাবে অবাধে করত, সেটা বন্ধ করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু এরকম দেওয়ার চেষ্টা করছে। দেখবেন যে পর্যায়ক্রমে সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে।"