Published : 28 Jun 2026, 10:32 PM
ক্রিকেট খেলা তো নয়, যেন কোনো ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা। ভয়াবহ ধসে বিধ্বস্ত ব্যাটিং। নখদন্তহীন পারফরম্যান্সে ধারহীন বোলিং। দুইয়ে মিলে বলা যায় বিভীষিকার একটি দিন। টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ পারফরম্যান্সে ডানা মেলে উড়ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দিনেই এতটা বাজেভাবে মুখ থুবড়ে পড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর দল, এখান থেকে আর ম্যাচে ফেরাই কঠিন।
হারারে টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ১৪০ রানে। এক পর্যায়ে রান ছিল ২ উইকেটে ১১৩। ৬০ রান করা মুমিনুল হকের বিদায় দিয়ে শুরু হয় উল্টো যাত্রার। ২৭ রানেই পতন হয় ৮ উইকেটের!
তাওহিদ হৃদয় ও অমিত হাসানকে টেস্ট ক্যাপ তুলে দিয়ে সাত বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানের একাদশ সাজায় বাংলাদেশ। কিন্তু মুমিনুল ছাড়া ব্যর্থ সবাই। শেষ সাত ব্যাটসম্যানের কেউ তো দু অঙ্ক ছুঁতেও পারেননি!
জিম্বাবুয়ের বোলিং আক্রমণের সবচেয়ে তরুণ অস্ত্র বাঁহাতি পেসার নিউম্যান নিয়ামুরি নিয়েছেন চার উইকেট, বাকি তিন পেসার নিয়েছেন দুটি করে।
হারারে স্পোর্টস ক্লাবের উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া ছিল বেশ। মুভমেন্ট ও বাউন্সও ছিল। বিশেষ করে, নতুন বলে বাউন্সের সামনে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়েছে ব্যাটসম্যানদের। তবে পরে বেশির ভাগ আউটে দায় মূলত ব্যাটসম্যানদেরই।
জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা সেই ভুল করেননি। উদ্বোধনী জুটিই দলকে দারুণ ভিত গড়ে দেয়। প্রথম দিন শেষে তাদের রান ১ উইকেটে ১৩৬। ইনোসেন্ট কাইয়া আপরাজিত ৭৬ রানে।
জিম্বাবুয়েতে টেস্ট ম্যাচ সাধারণত সকাল ১০টায় শুরু হলেও এই ম্যাচ শুরু হয় সাড়ে ৯টায়। উইকেটের চরিত্র আর কন্ডিশন মিলিয়ে টস জিতে বোলিং নিতে সময় নেননি টেস্ট নেতৃত্বে অভিষিক্ত রিচার্ড এনগারাভা। বাংলাদেশের অধিনায়ক শান্ত টসের সময় বলেন, তিনিও আগে বোলিং নিতে চেয়েছিলেন। তবে ব্যাটিংয়েও তার সমস্যা নেই।

সমস্যা অবশ্য ফুটে ওঠে দ্রুতই। জিম্বাবুয়ের পেসারদের দারুণ বোলিংয়ে সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয় তোলেন ৬ ওভারে ৬ রান। এরপরই নিয়ামুরি বিদায় করেন জয়কে (২)।
বাউন্সের সামনে নড়বড়ে সাদমান ৩ রাানে ক্যাচ হওয়া থেকে রক্ষা পান একটুর জন্য। তবে খুব বেশিক্ষণ টিকতেও পারেননি তিনি। ব্র্যাড ইভান্সের বাড়তি লাফানো বলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ধরা পড়েন স্লিপে (২০)।
জোড়া ধাক্কা সামলে ভালো জুটি গড়েন শান্ত ও মুমিনুল। দুজনের ব্যাটিং যদিও ছিল দুরকম। শান্ত পুল করে একটি বাউন্ডারি মারলেও স্বস্তিতে খেলতে পারছিলেন না একটু্ও। বিশেষ করে, বাউন্সের সামনে তাকে ভীষণ নড়বড়ে দেখা যায়। ৭ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বেঁচেও যান। এরপর আরও খোলসে ঢুকে পড়েন তিনি। মুমিনুল মাঝেমধ্যে অস্বস্তিতে পড়লেও পাল্টা আক্রমণে রান বাড়ান দ্রুত।
৭৭ রানের জুটি ভাঙে মুমিনুলের আলগা শটে। ১২ চারে ৮১ বলে ৬০ রানে ফেরেন তিনি।
তখনও আন্দাজ করা যায়নি, সামনে কী অপেক্ষায়। হঠকারী এক শটে শেষ হয় শান্তর অস্বস্তিময় উপস্থিতি। আচমকা ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে তেড়েফুঁড়ে মেরে আউট হয়ে যান অধিনায়ক।
এরপর কেবল ব্যাটসম্যানদের আসা আর যাওয়া। ভেতরে ঢোকা দারুণ ডেলিভারিতে মুশফিকুর রহিমের স্টাম্প উপড়ে দেন এনগারাভা। অভিষিক্ত হৃদয় ও অমিত কোনো ছাপ রাখতে পারেননি। শেষ তিন ব্যাটার রানই করতে পারেননি।
এরপর ব্যাটিংয়েও দারুণ শুরু করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের পেসাররা আলগা বল করেন প্রচুর। বাউন্ডারির পর বাউন্ডারি আসতে থাকে।
এই জুটি থামে ৯৮ বলে ৮৯ রান করে। ৪২ রান করা বেন কারানকে ফেরান সৈয়দ খালেদ আহমেদ। এরপর কাইয়া ও ব্রেন্ডন টেইলরের জুটিও জমে যায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪৭.২ ওভারে ১৪০ (জয় ২, সাদমান ২০, মুমিনুল ৬০, শান্ত ১৯, মুশফিক ৯, হৃদয় ৩, অমিত ৪, তাইজুল ৯, হাসান ০, খালেদ ০, ইবাদত ০*; এনগারাভা ১০-৪-১৮-২, মুজারাবানি ১৫-৮-১৯-২, নিয়ামুরি ১২.২-১-৬১-৪, ইভান্স ১০-৪-৩০-২)।
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ৩৪ ওভারে ১৩৬/১(কাইয়া ৭৬*, কারান ৪২, টেইলর ১৭*; হাসান ১০-০-৪৬-০, খালেদ ৮-১-৩৩-১, ইবাদত ৬-০-৩৭-০, তাইজুল ১০-০-১৯-০)।