Published : 28 Jun 2026, 10:19 PM
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপককে (ডিজিএম) অবরুদ্ধ করে তার অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
রোববার দুপুর থেকে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা কার্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ডিজিএম মো. সাইফুল আলমের অপসারণ দাবি করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ডিজিএমের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার অভিযোগ এনে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তাকে তার কক্ষে অবরুদ্ধে করে ফেলেন।
এ সময় কার্যালয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিক্ষুব্ধরা বলেন, ঘটনার শুরু ২৩ জুন। সেদিন অতিরিক্ত লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের উত্তর ধানুয়া গ্রামে দুই বিদ্যুৎকর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই ওই এলাকার একাংশের গ্রাহকদের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের উত্তেজনা চলছিল।
এই পরিস্থিতিতে রোববার সকালে হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্দান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর এজিএম নাজির উল্লাহর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ সদস্যের একটি দল উত্তর ধানুয়া গ্রামে যায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য।
গ্রামে পৌঁছানোর পর স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে বিদ্যুৎকর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে এজিএম নাজির উল্লাহসহ অন্তত ২৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত ও লাঞ্ছিত হন।
বিদ্যুৎকর্মীদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও ডিজিএম কোনো ধরনের পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই তাদের অভিযানে পাঠান।
আন্দোলনরত লাইন টেকনিশিয়ান তহির আহমেদ, লাইনম্যান মমিন, সানোয়ার মোহাম্মদ শুভ, ফেরদাউস খন্দকার, সুজন শেখ, মহন মিয়া, আজহারুল ইসলাম ও শহিদ আলম অভিযোগ করেন, এলাকাটি আগে থেকেই উত্তপ্ত ছিল। বিষয়টি জানার পরও ডিজিএম কোনো পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়াই তাদের সেখানে পাঠান। এতে সহকর্মীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এই ঘটনার দায় ডিজিএমকে নিতে হবে। তার অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
তবে স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ ভিন্ন। জুয়েল গাজীসহ একাধিক গ্রাহক বলেন, দুই মাস ধরে তাদের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দেওয়া হয়নি। পরে তিন মাসের বিল একসঙ্গে দিয়ে আগের দুই মাসের বিলের ওপর বিলম্ব ফি যোগ করা হয়েছে। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আসায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
তাদের অভিযোগ, সংযোগ বিচ্ছিন্নের কারণ জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন ফিরোজা বেগম নামে এক নারী গ্রাহকের সঙ্গে অসদাচরণ ও মারধর করেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে বিচ্ছিন্ন করা সংযোগ পুনঃস্থাপন করে বিদ্যুৎকর্মীরা এলাকা ত্যাগ করেন।
গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ বলেন, “আমি নিজেও এই অব্যবস্থাপনার ভুক্তভোগী। সাধারণ মানুষকে এভাবে হয়রানি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
অবরুদ্ধ অবস্থায় ডিজিএম মো. সাইফুল আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, “জিএম আসছেন, তিনিই সব বলবেন।”
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. এরশাদ উল্লাহ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদেরও উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবর পেয়ে বিকালে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আতিকুজ্জামান চৌধুরী ফরিদগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ে যান। তিনি বলেন, “আন্দোলনরত কর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রশাসনিক ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।