গাইবান্ধার ভোটে ২ ঘণ্টায় কোনো অনিয়ম ‘দেখেনি’ ইসি
ঢাকায় নির্বাচন ভবনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে মোট ১ হাজার ২৪২টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে গাইবান্ধা-৫ উপ নির্বাচনের পুনর্ভোট দেখতে বসা নির্বাচন কমিশন প্রথম দুই ঘণ্টায় সিসি ক্যামেরায় অনিয়মের কোনো দৃশ্য দেখতে পায়নি।
কনকনে শীতের মধ্যে এ নির্বাচনী এলাকার ১৪৫টি কেন্দ্রে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ইভিএমে চলছে, যা একটানা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলার কথা।
ইসির আইডিইএ প্রকল্পের ডিপিডি (কমিউনিকেশনস)স্কোয়াড্রন লিডার মো. শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, মোট ১ হাজার ২৪২টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ঢাকা থেকে সরাসরি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পঞ্চম তলায় ইসির নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সকাল ৮টা থেকেই সিসি ক্যামেরায় ভোট পর্যবেক্ষণ চলছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবীব খান, মো. আলমগীর, রাশেদ সুলতানা ও আনিছুর রহমান সেখানে আছেন।
ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৫ আসনে ভোটার মোট ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৩ জন।
নির্বাচনী এলাকার ১৪৫টি কেন্দ্রের ৯৫২টি বুথে ইভিএমে ভোট হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় নয়টি কেন্দ্রে ইভিএম ও সিসিটিভি চালানো হচ্ছে জেনারেটরের মাধ্যমে।
শীতের মধ্যে দিনের শুরুতে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি একেবারেই কম। বেলা বাড়লে ভোটার বাড়ার আশায় আছেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা।
গাইবান্ধার এ আসনে ৩২টি চরাঞ্চল রয়েছে। এসব প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে দুটি আর প্রতিটি ভোট কক্ষে একটি করে সিসি ক্যামেরায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, “নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।”
হাবিবুল আউয়ালের বর্তমান ইসির অধীনে এর আগে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন, ঝিনাইদহ পৌরসভার ভোটে সিসি ক্যামরা ব্যবহার হয়।
গত ১২ অক্টোবর গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণের মধ্যে সিসি ক্যামেরায় এক-তৃতীয়াংশ কেন্দ্রে অনিয়মের দৃশ্য দেখে মাঝপথে ঢাকা থেকে নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দেয় ইসি।
বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে অনিয়মের কারণে কোনো সংসদীয় আসনের নির্বাচন পুরোপুরি (সব কেন্দ্র) বন্ধ করার ঘটনা সেটাই প্রথম।
তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরে রিটার্নিং অফিসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশের উপ-পরিদর্শক, নির্বাহী হাকিমসহ শতাধিক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও নির্বাচনী এজেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এর ধারাবাহিকতায় বুধবার গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনের পুনর্ভোট হচ্ছে। আগের তফসিলে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন, তারাই পুনর্ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান মঙ্গলবার সবাইকে সতর্ক করে বলেছিলেন, অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে ছাড় দেওয়া হবে না।
“অনিয়মের গ্র্যাভিটি দেখে সেই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটুকু বলতে পারি, কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় একেবারেই দেব না আমরা।”
