Published : 25 Jun 2026, 04:20 PM
নতুন অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর কমিয়ে সুনির্দিষ্ট শুল্ক চালু করা হলে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণ—দুটোই সম্ভব হবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক।
তিনি বলেছেন, “সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং বিদ্যমান শুল্কের সাথে সবস্তরে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা হলে সরকারের যেমন রাজস্ব বাড়বে, পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা পাবে।”
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাজেট পরবর্তী আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিথি হয়ে বক্তব্য রাখছিলেন অধ্যাপক রুমানা।
তিনি বলেন, করহার অপরিবর্তিত রেখে কেবল দাম বাড়ানোর ফলে বর্ধিত মূল্যের একটি অংশ তামাক কোম্পানির পকেটে চলে যাবে।
“প্রিমিয়াম স্তরের প্রতি প্যাকেটের দাম ২৫ টাকা বাড়ানো হলেও এর মধ্যে ৪ দশমিক ২৫ টাকা কোম্পানি পেয়ে যাবে। কর বৃদ্ধির মাধ্যমে দাম বাড়ানো হলে পুরো ২৫ টাকাই সরকারি কোষাগারে জমা হতো।”
গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান—প্রজ্ঞা এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স—আত্মা এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।
এতে মূল উপস্থাপনা করেন প্রজ্ঞা’র হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে (সাময়িক) জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ। নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত। অথচ সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশ দখলে থাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বা শলাকা প্রতি মাত্র ২০ পয়সা। মধ্যম, উচ্চ এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে যথাক্রমে ১৫ শতাংশ, ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ।
বাজেটে বিড়ি, জর্দা, গুলের দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করে হাসান শাহরিয়ার বলেন, "নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর ওপর শুল্কায়নের মাধ্যমে নতুন আপদকে কার্যত আইনসিদ্ধ করা হয়েছে।”
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়িয়ে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যেতে হবে।”
তার ভাষ্য, তামাকবিরোধীদের কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ধূমপান হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সরকারের ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে। সেই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ২০ শলাকা ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন মূল্য ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ; জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ গ্রাম যথাক্রমে ৬০ টাকা ও ৩০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং সব তামাকপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়।
আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব অনলাইন মনির হোসেন লিটন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আয়েশা সুহায়মা রব, আত্মা’র কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী ও প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।