২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ফয়সালদের ব্যাংক হিসাবে ‘১২৭ কোটির অস্বাভাবিক লেনদেন’: সিআইডি

চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন না হওয়া মোট অর্থের পরিমাণ ২১৮ কোটি টাকা, বলা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

ফয়সালদের ব্যাংক হিসাবে ‘১২৭ কোটির অস্বাভাবিক লেনদেন’: সিআইডি
ফয়সাল করিম মাসুদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Dec 2025, 08:33 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:22 PM

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার ‘অস্বাভাবিক লেনদেনের’ তথ্য পাওয়ার কথা বলেছে সিআইডি।

রোববার সিআইডি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানিয়ে বলেছে, তারা ‘মানিলন্ডারিং’ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য পর্যালোচনা করে এই ‘অস্বাভাবিক লেনদেনের’ তথ্য পাওয়া গেছে। 

সিআইডি বলছে, "আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। এসময় প্রাপ্ত বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বইয়ের তথ্য সিআইডি গুরুত্ব নিয়ে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ শুরু করে। 

“এতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু চেক বইয়ে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থের কথা উল্লেখ রয়েছে। চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন না হওয়া এসব রেকর্ডের সমষ্টিগত মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা।"

প্রাথমিক বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে সিআইডি বলেছে, অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংক্রান্ত অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।”

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, "মূল অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে দ্রুততম সময়ে যেন বাজেয়াপ্ত করা যায়, সেজন্যও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সিআইডি।

“পাশাপাশি এই অর্থের মূল সরবরাহকারী ব্যক্তি- প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার জন্য সিআইডির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহে কোনো সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কিনা, সে বিষয়েও সিআইডির একাধিক টিম কাজ করছে।"

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদির ওপর আক্রমণ হয়। মোটরসাইকলে এসে খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয় হাদিকে।

হাদিকে প্রথমে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে একদফা অস্ত্রোপচারের পর নেওয়া হয় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে। 

সবশেষ সোমবার হাদিকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুর খবর আসে তার।  

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর রাতে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

 এ মামলায় আসামি হিসেবে সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অচেনা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

এ মামলার গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী মো. মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম। 

এদের মধ্যে হুমায়ুন ও হাসি দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। রিমান্ড শেষে নুরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিরা রিমান্ডে রয়েছেন।

আরো পড়ুন

হাদি হত্যা: ফয়সাল দেশে না বিদেশে, 'নিশ্চিত নয়' পুলিশ

হাদির ওপর হামলা: ভুয়া নম্বর প্লেট ও মোটরসাইকেল উদ্ধার

হাদিকে গুলি: মোটরসাইকেল মালিক হান্নানের ৩ দিনের রিমান্ড

বাসায় পড়ে থাকায় বাইকটি শোরুমে বিক্রি করে দিয়েছিলাম: আদালতে ...