Published : 19 May 2026, 06:01 PM
রাজধানীর গুলশানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্কের নাম পরিবর্তনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের ২৩ নাগরিক।
ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে আগের নাম বহাল ও সবার জন্য পার্ক উন্মুক্ত করে দেওয়ারও দাবি তুলে ধরেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, “মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতি সংরক্ষণে ২০২০ সালে গুলশানের এই পার্কটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক’। কিন্তু সম্প্রতি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রাজউক প্রচলিত আইন ও নাগরিক অধিকার উপেক্ষা করে এর নাম পরিবর্তন করে ‘গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স’ রেখেছে। একইসঙ্গে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে পার্কটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে’।

“সর্বজনশ্রদ্ধেয় একজন নেতার নাম মুছে ফেলার এমন এখতিয়ার রাজউক বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার নেই। আমরা তাদের এই উদ্যোগকে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করি। এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।”
‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (এএলআরডি) এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে ‘গুলশান ইয়ুথ ক্লাব’ এর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
সেখানে বলা হয়, “মূলত একটি অলাভজনক সামাজিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও ২০১৩ সালে তারা (গুলশান ইয়ুথ ক্লাব) ওই পার্কে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করেছিল। ওই বছরের এপ্রিলে রাজউক মাঠ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিলে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন। কিন্তু উচ্চ আদালত সেই রিট খারিজ করে দিয়ে মাঠের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশই বহাল রাখেন এবং পরবর্তীতে তা উচ্ছেদ করা হয়।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “বর্তমানে সেই একই দখলদার গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের অবৈধ স্থাপনাকে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ন্যক্কারজনক চেষ্টার অংশ হিসেবে পার্কটির নাম পরিবর্তন করে পুনরায় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদেরই দেওয়া হয়েছে।”

নাগরকিরা বলেন, পার্ক ও মাঠ ব্যবস্থাপনার নামে ‘গুলশান ইয়ুথ ক্লাব’ আবারও ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জনের পথ উন্মুক্ত করবে। এর ফলে কেবল বিত্তবানদের সন্তানরাই টাকার বিনিময়ে সেখানে খেলার সুযোগ পাবে, যা ‘মাঠ, পার্ক ও জলাধার আইন’ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
বিবৃতিতে মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, ‘নিজেরা করি’ এর সমন্বয়কারী খুশী কবির, টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা, সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন, লেখক রেহেনুমা আহমেদ, বিএনডব্লিউএলএ এর নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, লেখক-গবেষক পাভেল পার্থ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী সাঈদ আহমেদ ও কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক হানা শামস আহমেদ।
আরও পড়ুন-