Published : 28 Mar 2026, 05:03 PM
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার পৃথক শোকবার্তায় দিলারা হাফিজের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকার্ত পরিবারের প্রতি তারা সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “শিক্ষা ক্ষেত্রে দিলারা হাফিজের অসামান্য অবদানের কথা জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।”
প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় বলেন, “দিলারা হাফিজ একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী ছিলেন। তার মৃত্যুতে জাতি একজন সজ্জন শিক্ষাবিদকে হারাল।”
দিলারা হাফিজ শনিবার দুপুরে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা মারা যান। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
শনিবার সকাল ১১টা ২৯ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অধ্যাপক দিলারা হাফিজ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, গেল ২১ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় দিলারা হাফিজকে। সেখানে তাকে ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
শুক্রবার থেকে দিলারা হাফিজের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এরপর শনিবার সকালে মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকের পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
রোববার তার কফিন ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। পরের দিন ৩০ মার্চ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বেলা ১১টায় এবং বাদ জোহর সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
দিলারা হাফিজের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্বামী, দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রেখে গেছেন।
দিলারা হাফিজ ১৯৪৯ সালের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী এবং মা করিমুন্নেছা খাতুন চৌধুরী।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল নিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিলারা হাফিজ। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক সন্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।
তার কর্মজীবন শুরু হয় সরকারি ইডেন মহিলা কলেজে প্রভাষক হিসেবে। কর্মজীবনে তিনি সোহরাওয়ার্দি কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যাক্ষ ছিলেন।
এছাড়া অধ্যাপক দিলারা হাফিজ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, অন্যান্য হুইপ, সংসদ সদস্যরা, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।