১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদেশের মিশন থেকে সরল রাষ্ট্রপতির ছবি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখে কুলুপ

“সংবিধান অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টানানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি টানানো ছিল একটা রেওয়াজ। এখন ‘কারও ছবি থাকবে না’–সেই নীতির বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”

বিদেশের মিশন থেকে সরল রাষ্ট্রপতির ছবি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখে কুলুপ
বিদেশের মিশনগুলো থেকে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও রোববার বিকাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্যাফেতে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ছবি দেখা যায়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2025, 09:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:36 PM

বাংলাদেশের যেসব বিদেশি মিশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবি ছিল, তা অপসারণ করা হয়েছে। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা না দিয়ে টেলিফোনের মাধ্যমে মৌখিক নির্দেশ কাজটি সেরেছে।   

রোববার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাহ আসিফ রহমানও প্রশ্ন এড়িয়ে যান।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, ৫ অগাস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিদেশে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মিশন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি নামিয়ে ফেলা হয়।

এর বাইরে যেসব দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ছবি ছিল, তা নামানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে তারা বলেছেন, এক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা না দিয়ে শনিবার টেলিফোনে তা নামিয়ে ফেলতে বলা হয়।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টানানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি টানানো ছিল একটা রেওয়াজ। এখন ‘কারও ছবি থাকবে না’–সেই নীতির বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”

এদিকে বিদেশের মিশনগুলো থেকে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও রোববার বিকাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্যাফেতে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ছবি দেখা যায়।

রাষ্ট্রপতির ছবি অপসারণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমিও আপনার মত পত্রিকায় পড়েছি, কিন্তু যেহেতু আমি বিদেশি দূতাবাসে কাজ করি না, সেহেতু বলতে পারছি না যে আসলে প্রেক্ষিতটা কী।” 

এক প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা বলেন, “এটার সাথে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নাই, সেটা স্পষ্ট। একটা ছবির সাথে নির্বাচনের সম্পর্ক থাকতে পারে না।”

সরকারি সিদ্ধান্ত হলে তার লিখিত কাগজপত্র থাকত মন্তব্য করে তিনি বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনায় হলে হত বলা যাবে।”