১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পৌনে ৪ বছর পর মুক্তি পেলেন বাবুল আক্তার

মুক্তির সময় কারাগারে বাবুল আক্তারের বর্তমান স্ত্রী ইসরাত জাহান মুক্তা ও স্বজনরা হাজির হন।

পৌনে ৪ বছর পর মুক্তি পেলেন বাবুল আক্তার
আদালতে বাবুল আক্তার

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Dec 2024, 07:36 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:03 AM

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় প্রায় তিন বছর সাত মাস পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার।

বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পুলিশ পাহারায় সিলভার রঙের একটা প্রাইভেটকারে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি বের হন; এসময় কারও সঙ্গে তিনি কথা বলেননি।

মুক্তি সময় কারাগারে বাবুলের বর্তমান স্ত্রী ইসরাত জাহান মুক্তা ও স্বজনরা হাজির হন।

বাবুল আক্তারের আইনজীবী কফিল উদ্দীন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, উচ্চ আদালতে বাবুল আক্তারের জামিন আদেশের পর তার সাবেক শ্বশুর মোশারফ হোসেন জামিনের স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বুধবার চেম্বার জজ আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন। ফলে বাবুল আক্তারের মুক্তি পেতে আর বাধা নেই।

“মামলায় ভবিষ্যতে নিয়মিত হাজিরার শর্তে বাবুল আক্তার মুক্তির আদেশ দিয়েছে আদালত। আদেশের কপি কারাগারে পাঠানোর পর তিনি মুক্ত হয়েছেন।”

আইনজীবী কফিল উদ্দিন বলেন, উচ্চ আদালত জামিনের আদেশ দিয়েছে, জজ আদালত রিলিজ অর্ডার দিয়েছে। আইন অনুযায়ী আদালতের স্থগিতাদেশ ছাড়া লয়ার সার্টিফিকেট দিয়ে কাউকে আটকে রাখাটা অবৈধ।

গত ২৭ নভেম্বর হাই কোর্ট থেকে জামিন পান সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি আলী রেজার হাইকোর্ট বেঞ্চ বাবুলের জামিন আদেশ দিলে তার মুক্তির পথ খোলে।

বাবুল আক্তারকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি: আইনজীবী

বাবুল আক্তার ছাড়া পেতে পারেন, এমন খবর রটে যায় বুধবার দুপুরের মধ্যেই। এরপর বেলা ৩টার দিকে চট্টগ্রামের গণমাধ্যমকর্মীরা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে অবস্থান নেন। ভিড় করেন সাধারণ লোকজনও।

কারা ফটকে ছিলেন বাবুল আক্তারের স্ত্রী ইশরাত জাহান মুক্তা, স্বজন ও তার আইনজীবী। সেইসঙ্গে মামলার অন্যতম আসামি এহতেশামুল হক ভোলাও ছিলেন।

চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে একটি প্রাইভেটকারে বের হন বাবুল আক্তার।

চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে একটি প্রাইভেটকারে বের হন বাবুল আক্তার।

সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কারাগার থেকে বের হয় বাবুল আক্তারকে বহনকারী একটি প্রাইভেটকার। তার সামনে ছিল পুলিশের পিকআপ।

কালো জানালার প্রাইভেটকারটি কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা থামানোর চেষ্টা করলেও সেটি চলে যায়। পরে আইনজীবী কফিল উদ্দিন   ইশরাত জাহান মুক্তার মোবাইল ফোনে বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলে তার চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন।

সাংবাদিকদের পরে আইনজীবী কফিল বলেন, “তিনি (বাবুল আক্তার) কথা বলতে চেয়েছিলেন। তাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। সেজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

“তিনি বলেছেন, তাকে বলা হয়েছে বাইরে ঝামেলা আছে। সেজন্য তাকে প্রাইভেটকারে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে উনি সবার সঙ্গে কথা বলবেন বলেছেন।”

কফিল উদ্দিনের ভাষ্য, “তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেটা তিনি (বাবুল আক্তার) নিজেও জানেন না বলেছেন।”

জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাবুল আক্তার। চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বুধবার পুলিশ পাহারায় তাকে বের করা হয়।

জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাবুল আক্তার। চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বুধবার পুলিশ পাহারায় তাকে বের করা হয়।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সে সময়কার চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এসপি বাবুল আক্তার ওই ঘটনার কিছুদিন আগেই চট্টগ্রাম থেকে বদলি হন। তিনি ঢাকায় কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়ার পরপরই চট্টগ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ঘটনাক্রম

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সে সময়কার চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এসপি বাবুল আক্তার ওই ঘটনার কিছুদিন আগেই চট্টগ্রাম থেকে বদলি হন। তিনি ঢাকায় কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়ার পরপরই চট্টগ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ঘটনার পর টানা সাড়ে তিন বছর তদন্ত করেও ডিবি পুলিশ কোনো কূলকিনারা করতে না পারার পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এরপর ২০২১ সালের মে মাসে পিবিআই জানায়, স্ত্রী মিতুকে হত্যা করা হয়েছিল বাবুল আক্তারের ‘পরিকল্পনায়’। আর এজন্য খুনিদের ‘লোক মারফত তিন লাখ টাকাও দিয়েছিলেন’ বাবুল।

পরে বাবুলের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয় এবং মিতুর বাবা আরেকটি মামলা করেন। তবে মিতুর বাবার করা সেই মামলা আদালতে না টেকার পর বাবুলের মামলাটিই আবার পুনরুজ্জীবিত হয়।

২০২১ সালের মে মাসে পিবিআই এর হাতে গ্রেপ্তার হন বাবুল। ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সেই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। তাতে বাবুলসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। এরপর ওই বছরের ১০ অক্টোবর সেই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত।

গত বছরের ৯ এপ্রিল মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনের সাক্ষ্যের মধ্যে দিয়ে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

মামলাটি বর্তমানে চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জসিম উদ্দিনের আদালতে বিচারাধীন। মামলার ৯৭ জন সাক্ষীর মধ্যে মিতুর মা শাহেদা মোশাররফসহ মোট ৫২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

বাবুল আক্তার গত ১৪ অগাস্ট চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন। বিচারক তা নাকচ করে দিলে তার আইনজীবীরা হাই কোর্টে যান।

আরও পড়ুন-

জামিন বহাল চেম্বারে, বাবুল আক্তারের মুক্তিতে বাধা নেই

মুক্তি মেলেনি বাবুলের, জামিন আটকাতে মিতুর বাবার আবেদন

মিতু হত্যা: বাবুলের বর্তমান স্ত্রী মোশাররফের বাসায় গিয়েছিলেন ডিসেম্বরে

মিতু হত্যা: বাদী বাবুল আক্তার যেভাবে আসামি