২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

জামিন বহাল চেম্বারে, বাবুল আক্তারের মুক্তিতে বাধা নেই

বুধবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।

জামিন বহাল চেম্বারে, বাবুল আক্তারের মুক্তিতে বাধা নেই
বাবুল আক্তার। ফাইল ছবি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Dec 2024, 04:46 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:25 PM

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত। 

ফলে বাবুলের মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী শিশির মনি।

বুধবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।

উচ্চ আদালতে বাবুল আক্তারের আইনজীবী শিশির মনির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তিন বছর সাত মাস কাস্টডিতে থাকার পর আজকে উচ্চ আদালত জামিনে মুক্তি পাবেন বলে হাই কোর্ট ডিভিশন জামিন দিয়েছিল। মিতুর বাবা আপিল দায়ের করেছিল। আপিলটির আজ শুনানি হয়। 

“আজ চেম্বার জজ তাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নো অর্ডার করেছেন। ফলে আবুল আক্তারের জেল থেকে বের হতে আর কোনো বাধা নেই।”

বাবুল বুধবারই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করছেন তার আইনজীবী।

বাবুল আক্তারকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রোববার আবেদন করেছিলেন মিতুর বাবা।

এর আগে প্রায় তিন বছর সাত মাস কারাগারে থাকার পর গত ২৭ নভেম্বর হাই কোর্ট থেকে জামিন পান সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার।

বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি আলী রেজার হাইকোর্ট বেঞ্চ বাবুলের জামিন আদেশ দিলে তার মুক্তির পথ খোলে।  

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সে সময়কার চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

বাবুল আক্তার ও তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।

বাবুল আক্তার ও তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু।

 এসপি বাবুল আক্তার ওই ঘটনার কিছুদিন আগেই চট্টগ্রাম থেকে বদলি হন। তিনি ঢাকায় কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়ার পরপরই চট্টগ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

মামলার ঘটনাক্রম

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সে সময়কার চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এসপি বাবুল আক্তার ওই ঘটনার কিছুদিন আগেই চট্টগ্রাম থেকে বদলি হন। তিনি ঢাকায় কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়ার পরপরই চট্টগ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ঘটনার পর টানা সাড়ে তিন বছর তদন্ত করেও ডিবি পুলিশ কোনো কূলকিনারা করতে না পারার পর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এরপর ২০২১ সালের মে মাসে পিবিআই জানায়, স্ত্রী মিতুকে হত্যা করা হয়েছিল বাবুল আক্তারের ‘পরিকল্পনায়’। আর এজন্য খুনিদের ‘লোক মারফত তিন লাখ টাকাও দিয়েছিলেন’ বাবুল।

পরে বাবুলের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয় এবং মিতুর বাবা আরেকটি মামলা করেন। তবে মিতুর বাবার করা সেই মামলা আদালতে না টেকার পর বাবুলের মামলাটিই আবার পুনরুজ্জীবিত হয়।

২০২১ সালের মে মাসে পিবিআই এর হাতে গ্রেপ্তার হন বাবুল।

২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সেই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। তাতে বাবুলসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।

এরপর ওই বছরের ১০ অক্টোবর সেই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত।

গত বছরের ৯ এপ্রিল মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনের সাক্ষ্যের মধ্যে দিয়ে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

মামলাটি বর্তমানে চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জসিম উদ্দিনের আদালতে বিচারাধীন।

মামলার ৯৭ জন সাক্ষীর মধ্যে মিতুর মা শাহেদা মোশাররফসহ মোট ৫২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

বাবুল আক্তার গত ১৪ অগাস্ট চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন । বিচারক তা নাকচ করে দিলে তার আইনজীবীরা হাই কোর্টে যান।

মুক্তি মেলেনি বাবুলেরজামিন আটকাতে মিতুর বাবার আবেদন