১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদযাত্রা: সবচেয়ে বেশি পোশাক কারখানায় ছুটি শুরু মঙ্গলবার

এদিন ছুটি শুরু হবে ৭১৩টি কারখানায়; বুধবার থেকে ছুটি কাটাবেন ২৫১ কারখানার শ্রমিকরা।

ঈদযাত্রা: সবচেয়ে বেশি পোশাক কারখানায় ছুটি শুরু মঙ্গলবার
ফাইল ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 May 2026, 09:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:41 PM

যানজটের কথা মাথায় রেখে এবারও ধাপে ধাপে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে, যেখানে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের ছুটি শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার থেকে। 

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) হিসাব অনুযায়ী, রোববার ছুটি শুরু হয় ১০৮টি কারখানায়। অর্থাৎ, এসব কারখানায় শেষ কর্মদিবস ছিল শনিবার।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ছুটি শুরু হয় ৬৬৪টি কারখানায় (৩৭ শতাংশ)। মঙ্গলবার থেকে ছুটি শুরু হবে সবচেয়ে বেশি, ৭১৩টি কারখানায় (৪৩ শতাংশ)। আর বুধবার থেকে ছুটি কাটাবেন ২৫১টি কারখানা (১৪ শতাংশ) কারখানার শ্রমিক।

বেশির ভাগ শ্রমিক শেষ দিনের কাজ সেরেই বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। সেই হিসাবে, সোমবারই সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের বাড়ির পথ ধরার কথা। 

কুমিল্লার দেবীদ্বারে যাওয়ার জন্য সায়েদাবাদ এলাকায় অপেক্ষায় ছিলেন কারখানার শ্রমিক কামাল হোসেন। 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকাল থেকেই বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল। ছুটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টেশনে।”

“মানুষের চাপ। গাড়ির জন্য অপেক্ষায় আছি। কখন পাই দেখি।”

সোমবার কারখানা ছুটির পর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে রংপুর যেতে গাবতলী বাস টার্মিনালে আসেন সোলেয়মান।

তিনি বলেন, “সকাল থেকেই চাপ বেড়েছে বলে জানলাম। আমরা চারজন। এখনো গাড়ির টিকেট কাটতে পারিনি।”

ভাড়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, “এমনিতেই ঈদে ভাড়া বেশি নেয়। আমাদের মতো শ্রমিকদের তো কষ্ট হয়। আত্মীয় স্বজন থাকে; কষ্ট করে বাড়ি ফিরি।” 

নাবিল পরিবহনের কাউন্টারে বাসের অপেক্ষায় থাকা এক নারী শ্রমিক বলেন, “বাড়ি যাওয়া তো ভোগান্তি। ঈদে বলে যাইতে হয়। বেশি টেহা দিয়েই টিকেট কাটছি।” 

আগমনী এক্সপ্রেসের বাস চালক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকাল থেকেই যাত্রী বাড়ছে। আমরা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম।”

বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “ঈদে একটু ভাড়া তো বেশি নিতে হয়। তেলের দাম বেশি। সড়কে যানজটে খরচ বেড়ে যায়। এজন্যই ভাড়া কিছুটা বেশি নিতে হয়।” 

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “সড়কে যেন বাড়তি চাপ না হয়, সেজন্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে রোস্টার অনুযায়ী ছুটি দেওয়া হয়েছে। 

“এই রোস্টারের ফলে শ্রমিকরা চাপ ছাড়াই গ্রামের বাড়িতে যেতে পারছেন; ঈদ শেষে ধাপে ধাপে আবার কাজে ফিরতেও পারবেন।”

বেতন বোনাস পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, “দুটি কারখানার বেতন-বোনাস নিয়ে সমস্যা ছিল। তার মধ্যে একটি সমাধান করেছি। আরেকটির সমাধানের চেষ্টা চলছে।”